
চাঁদপুর–কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় আইদি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসটির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিও জব্দ করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম রাহেলা আক্তার শান্তা (১৭)। তিনি কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে। তিনি শামছুল হুদার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে ঘোষেরহাট এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় আইদি পরিবহনের একটি বাস তাঁকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার চার দিন পর, ১১ জানুয়ারি নিহত শিক্ষার্থীর বাবা শামছুল হুদা বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় আইদি বাসের চালক ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা নম্বর ৪৭। মামলায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮–এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর কুমিল্লা ব-১১-০৩৭৩।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়। এরপর চাঁদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে বাসটির চালক সফিউল্লাহ মিয়া (৫১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সফিউল্লাহ মিয়ার বাড়ি কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর গোহাট (উত্তর) ইউনিয়নের হারিচাইল (মুন্সিবাড়ি) এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুর রশিদ ও মায়ের নাম ছায়েরা খাতুন।
সদর মডেল থানার এসআই আওলাদ হোসেন বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও ওসির তত্ত্বাবধানে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে বাসচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাসের মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।” তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া চালককে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থী শান্তার মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শান্তা নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা চালক গ্রেপ্তার ও বাস জব্দ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারেরও দাবি তোলেন তাঁরা।
বিশেষ প্রতিনিধি 













