ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশ মাছের পিকআপ ডাকাতি, ১৯ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার ইদ্রিস গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:১৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • 37

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাছ ব্যবসায়ীর পিকআপভর্তি ইলিশ মাছ ও নগদ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৯টি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের মাছের আড়ত থেকে ইলিশ কিনে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি চালক ও সহযোগীকে নিয়ে পিকআপভর্তি ইলিশ মাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে।

এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আলোচিত এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ এবং র‍্যাব-১০, সিপিসি-১ (যাত্রাবাড়ী)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া (২৭) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার হাজীপুর চৌমুহনী এলাকার মৃত হেকিম আব্দুল মান্নানের ছেলে। তাঁর বর্তমান ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বরগাঁও, সাদিপুর এলাকায়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পূর্বের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনায় ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৯টি ডাকাতির মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডাকাতি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে র‍্যাবের দাবি।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইদ্রিস মিয়া বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে ডাকাতি করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেনকে লক্ষ্য করে মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের নেয়ামতপুর এলাকায় তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করেন। ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বিভিন্ন শাখা সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ইলিশ মাছের পিকআপ ডাকাতি, ১৯ মামলার আসামি ডাকাত সর্দার ইদ্রিস গ্রেপ্তার

আপডেট : ১০:১৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাছ ব্যবসায়ীর পিকআপভর্তি ইলিশ মাছ ও নগদ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৯টি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নেয়ামতপুর এলাকায় মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটের মাছের আড়ত থেকে ইলিশ কিনে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করতেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি চালক ও সহযোগীকে নিয়ে পিকআপভর্তি ইলিশ মাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের পিকআপ তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে।

এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক ও মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাঁদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৭১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

আলোচিত এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২ এবং র‍্যাব-১০, সিপিসি-১ (যাত্রাবাড়ী)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের সর্দার ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস মিয়া (২৭) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার হাজীপুর চৌমুহনী এলাকার মৃত হেকিম আব্দুল মান্নানের ছেলে। তাঁর বর্তমান ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বরগাঁও, সাদিপুর এলাকায়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পূর্বের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনায় ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৯টি ডাকাতির মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডাকাতি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে র‍্যাবের দাবি।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইদ্রিস মিয়া বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশফেরত প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে ডাকাতি করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেনকে লক্ষ্য করে মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কের নেয়ামতপুর এলাকায় তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করেন। ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।