ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ঐতিহাসিক জয়ের পর ট্রাম্পকে খোঁচা আল-সাইয়েদের

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • 41

ছবি-সংগৃহিত।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আব্দুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে ডেট্রয়েটে দলীয় সমর্থকদের সামনে দেওয়া ভাষণে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন তিনি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, মিশিগানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন আল-সাইয়েদ।

বিজয়ী ভাষণের শুরুতেই ধর্মীয় অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি। আল-সাইয়েদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় যেকোনো ফলাফলের প্রসঙ্গে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন। আর বিজয়ের রাতে সেই ইনশাআল্লাহকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে রূপ দিতে পেরেছেন তাঁরা।

নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিরোধীরা এমন একটি আমেরিকার স্বপ্ন দেখে, যেখানে সমাজের নির্দিষ্ট একটি অংশের জন্যই জায়গা রয়েছে। অথচ বাস্তবের আমেরিকা সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট উদার।

পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বেছে নিয়েছিলেন ঘৃণা, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশা।’ একই সঙ্গে রজার্সকে অবসর জীবন উপভোগ করার পরামর্শ দেন নবনির্বাচিত এই সিনেটর।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আরবি ভাষার স্নেহসূচক সম্বোধন ‘হাবিবি’ বলে উল্লেখ করে আল-সাইয়েদ বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভ্যান্সকেই তাঁকে শপথ পাঠ করাতে হবে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবেও বক্তব্য দেন আল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করতে অসুবিধা হলে শপথ গ্রহণের পর ট্রাম্প তাঁকে সরাসরি ‘সিনেটর’ বলে সম্বোধন করতে পারেন।

নির্বাচনে অর্থের প্রভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রাথমিক ও মূল নির্বাচন মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। প্রচারণায় আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

আল-সাইয়েদ বলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে ফিলিস্তিনি শিশুরা যেন নিজেদের পৈতৃক ভূমিতে নিহত না হয়—এমন বিশ্বাস ঘৃণার নয়, বরং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের অর্থ যুদ্ধ, বর্ণবাদ কিংবা আগ্রাসনের পরিবর্তে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো, সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

আল-সাইয়েদ বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু একটি সিনেট আসন জয় করা নয়; বরং এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা।

দীর্ঘ ১৯ মাসের নির্বাচনী লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী সারা, সন্তান, পরিবারের সদস্য, তৃণমূলের কর্মী, শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং দলীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে আগামী ছয় বছর সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে ওয়াশিংটনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন নবনির্বাচিত এই সিনেটর।

আব্দুল আল-সাইয়েদের এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট’, সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াইট হাউস

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ঐতিহাসিক জয়ের পর ট্রাম্পকে খোঁচা আল-সাইয়েদের

আপডেট : ০৯:১৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আব্দুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে ডেট্রয়েটে দলীয় সমর্থকদের সামনে দেওয়া ভাষণে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন তিনি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, মিশিগানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন আল-সাইয়েদ।

বিজয়ী ভাষণের শুরুতেই ধর্মীয় অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি। আল-সাইয়েদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময় যেকোনো ফলাফলের প্রসঙ্গে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন। আর বিজয়ের রাতে সেই ইনশাআল্লাহকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে রূপ দিতে পেরেছেন তাঁরা।

নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিরোধীরা এমন একটি আমেরিকার স্বপ্ন দেখে, যেখানে সমাজের নির্দিষ্ট একটি অংশের জন্যই জায়গা রয়েছে। অথচ বাস্তবের আমেরিকা সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট উদার।

পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি বেছে নিয়েছিলেন ঘৃণা, আর মিশিগান বেছে নিয়েছে আশা।’ একই সঙ্গে রজার্সকে অবসর জীবন উপভোগ করার পরামর্শ দেন নবনির্বাচিত এই সিনেটর।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে আরবি ভাষার স্নেহসূচক সম্বোধন ‘হাবিবি’ বলে উল্লেখ করে আল-সাইয়েদ বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভ্যান্সকেই তাঁকে শপথ পাঠ করাতে হবে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবেও বক্তব্য দেন আল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করতে অসুবিধা হলে শপথ গ্রহণের পর ট্রাম্প তাঁকে সরাসরি ‘সিনেটর’ বলে সম্বোধন করতে পারেন।

নির্বাচনে অর্থের প্রভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রাথমিক ও মূল নির্বাচন মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। প্রচারণায় আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (আইপ্যাক) অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

আল-সাইয়েদ বলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে ফিলিস্তিনি শিশুরা যেন নিজেদের পৈতৃক ভূমিতে নিহত না হয়—এমন বিশ্বাস ঘৃণার নয়, বরং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের অর্থ যুদ্ধ, বর্ণবাদ কিংবা আগ্রাসনের পরিবর্তে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো, সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

আল-সাইয়েদ বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু একটি সিনেট আসন জয় করা নয়; বরং এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা।

দীর্ঘ ১৯ মাসের নির্বাচনী লড়াইয়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী সারা, সন্তান, পরিবারের সদস্য, তৃণমূলের কর্মী, শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং দলীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে আগামী ছয় বছর সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে ওয়াশিংটনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন নবনির্বাচিত এই সিনেটর।

আব্দুল আল-সাইয়েদের এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।