ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)

ধানের শীষকে চোখ রাঙাচ্ছে চিংড়ি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মরিয়া জামায়াত

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের পরিমান যদি ৭০ শতাংশ ধরে নেওয়া হয়, তাহলে ভোটের পরিমান দাঁড়াবে দুই লক্ষ আশি হাজার চার শত বিয়াল্লিশ। নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য একজন প্রার্থীর প্রয়োজন হবে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার দুই শত একুশ ভোট। কিন্তু আসনটিতে লড়াই হবে ত্রিমুখী। ফলে গড় হিসেবে কোন প্রার্থী তিরানব্বই হাজার চার শত একাশি ভোট পেয়েও নির্বাচিত হতে পারেন।

এদিকে হাতপাখা এবং লাঙলের ভোট ন্যূনতম প্রভাব ফেলবে নির্বাচনী সমীকরণে।

সেক্ষেত্রে নব্বই হাজার কিংবা এর চেয়ে কম ভোট পেয়েও কোন প্রার্থী বিজয়ের মালা গলায় পরতে পারেন।

কাগজে কলমে ভোটের সমীকরণ যাই হোক, অন্তত এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ভোটকে জয়ের জন্য ঝুঁকি মুক্ত বিবেচনা করেই মাঠে তৎপর প্রতিযোগী প্রার্থীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন আসনটির সাবেক সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। তাঁর বিপরীতে চিংড়ী প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদস্য বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির (বর্তমানে স্থগিত) আহবায়ক মো. আব্দুল হান্নান। ফলে দূর্গ হিসেবে বিবেচিত আসনটিতে বিএনপির ভোট স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একই রাজনৈতিক দলের কর্মী হলেও উভয়েরই রয়েছে বিকর্ষণধর্মী শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়। এতে অনতিক্রম্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধানের শীষ।

ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। রমনা থানার মামলা নং- ০৪/২০০৯। মামলাটিতে তাকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিặত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির স্থগিতাদেশ আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের। মামলা নং- ০৭/২০১৭। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের আজীবন সদস্য হওয়া, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে কোন রাজনৈতিক মামলার শিকার না হওয়া, ২০০৮ সাল এবং ২০১৮ সালের নমিনেশন ইঞ্জিয়ারিং বিএনপির আপামর কর্মী-সমর্থকদেরকে হারুনুর রশীদের প্রতিকূলে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ গণবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নেতারা ধানের শীষে ভর করায় উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটাররাও ক্রমাগত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ভোটের প্রচারনায় একাধিকবার বিব্রত হতে হয়েছে তাঁকে। সর্বোপরি ধানের শীষের কর্মীদের দ্বারা প্রতিযোগী প্রার্থী কর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর এবং হুমকি ধমকি দেওয়ায় মো. হারুনুর রশীদের মত বরেণ্য প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

বিপরীতক্রমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের তোয়াক্কা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের পক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং পৌরসভা বিএনপি, যুবদল (বিএনপি এবং যুবদলের কমিটি স্থগিত), স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বৃহদাংশ। ২০২৩ সালের আটাশ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেফতার হয়ে রাজনৈতিক মামলায় তিন মাস কারাবরণ করেন মো. আব্দুল হান্নান। মামলা নং- জিআর ৩৫৪/২০২৩। দুই দশকের অধিক সময় ধরে চালিয়ে আসা দান-অনুদান কার্যক্রম শ্রমিক এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে তাঁর অনুকূলে প্রভাবিত করেছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণকৃত কৃষি উপকরণ প্রভাবিত করেছে কৃষি নির্ভর শ্রেণীকে। ইউনিয়ন ইউনিয়নে তাঁর নির্মিত রাস্তাঘাট এবং মসজিদ প্রভাবিত করেছে দল নিরপেক্ষ সাধারণ ভোটারদের। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের মনোনয়ন প্রবঞ্চনা, চলমান নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে ধানের শীষের কর্মীদের দ্বারা তাঁর প্রচার মাইক ভাঙচুর, নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর, কর্মীদের উপর হামলা মত ঘটনায় রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের সহানুভূতিও পাচ্ছেন তিনি। সর্বপরি দল নিরপেক্ষ প্রতীক হওয়ায় ভোটমুখী আওয়ামীলীগের সাধারণ ভোটারদের ভোটও তার ব্যালটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কল্যাণমুখী রাজনীতি এবং বিএনপির দ্বিবিভক্ত পরিস্থিতিতে চাঁদপুর-০৪ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধীতে পরিনত হয়েছে জামায়াত। শুরুর দিকে এটি জামায়াতের ‘সি’ ক্যাটাগরির আসন থাকলেও বর্তমানে তাদের ‘এ’ তালিকাভুক্ত আসন এটি। এ আসনে কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খীসহ বর্তমানে জামায়াতের আশি হাজার লিস্টেড ভোটার রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যা মোট ভোটারের ২০ শতাংশ। উপজেলার হিন্দু ভোটেও এবার ভাগ বসাবে জামায়াত। ব্যাপক পরিমানে নারী ভোট টানতে নিরবে কাজ করছেন তাঁরা। জামায়াত প্রার্থী একজন শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক সমাজেও এর বিস্তর প্রভাব পড়েছে। বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কার্যক্রম সুবিধা এনে দিচ্ছে জামায়াতকে। নির্বাচন পরবর্তী হয়রানীর আশঙ্কায় জামায়াতকে বিএনপির উত্তম বিকল্প ভাবছেন এলাকায় বসবাস করা সাধারণ আওয়ামীলীগাররা। ত্রিমুখী লড়ায়ের নির্বাচনী সমীকরণ যদি ধানের শীষের পক্ষে ঝুঁকে যায়, সেক্ষেত্রে হারুনুর রশদিকে ঠেকাতে চিংড়ীর ভোট দাঁড়িপাল্লায় ঝুঁকে গেলে বিস্ময়ের কিছু থাকবেনা।

গণফোরামের মুনীর চৌধুরী (উদীয়মান সূর্য) আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসাইনের (ঘুড়ি) ভোট নির্বাচনী সমীকরণকে প্রভাবিত করবেনা। কিন্তু চৌদ্দ দলীয় মহাজোটের প্রধান মিত্র জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল), ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশ (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ভোটের বাক্সে যে ন্যূনতম প্রভাব ফেলবে তাতেও দুলে উঠবে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-০৪ আসনের সম্ভাব্য সাংসদ হিসেবে চিংড়ী প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানকেই এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে-অকারণে বদলায়। সকালে-বিকালে বদলায়। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে তেমনি বদলে যেতে পারে ভোটারের মন। বদলে যেতে পারে ভোটের হিসেব নিকেশ। ফলে বদলাবে ভোটের সমীকরণ। ধানের শীষ আর চিংড়ীর মাঝে ভোটের কাড়াকাড়ি যত বাড়বে, সমানুপাতিক হারে বাড়বে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের সম্ভাবনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নির্বাচনে গুপ্তচরদের কাছ থেকে সকলে সতর্ক থাকুন-ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলন 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)

ধানের শীষকে চোখ রাঙাচ্ছে চিংড়ি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মরিয়া জামায়াত

Update Time : ০৯:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের পরিমান যদি ৭০ শতাংশ ধরে নেওয়া হয়, তাহলে ভোটের পরিমান দাঁড়াবে দুই লক্ষ আশি হাজার চার শত বিয়াল্লিশ। নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য একজন প্রার্থীর প্রয়োজন হবে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার দুই শত একুশ ভোট। কিন্তু আসনটিতে লড়াই হবে ত্রিমুখী। ফলে গড় হিসেবে কোন প্রার্থী তিরানব্বই হাজার চার শত একাশি ভোট পেয়েও নির্বাচিত হতে পারেন।

এদিকে হাতপাখা এবং লাঙলের ভোট ন্যূনতম প্রভাব ফেলবে নির্বাচনী সমীকরণে।

সেক্ষেত্রে নব্বই হাজার কিংবা এর চেয়ে কম ভোট পেয়েও কোন প্রার্থী বিজয়ের মালা গলায় পরতে পারেন।

কাগজে কলমে ভোটের সমীকরণ যাই হোক, অন্তত এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ভোটকে জয়ের জন্য ঝুঁকি মুক্ত বিবেচনা করেই মাঠে তৎপর প্রতিযোগী প্রার্থীরা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন আসনটির সাবেক সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ। তাঁর বিপরীতে চিংড়ী প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদস্য বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটির (বর্তমানে স্থগিত) আহবায়ক মো. আব্দুল হান্নান। ফলে দূর্গ হিসেবে বিবেচিত আসনটিতে বিএনপির ভোট স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একই রাজনৈতিক দলের কর্মী হলেও উভয়েরই রয়েছে বিকর্ষণধর্মী শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়। এতে অনতিক্রম্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধানের শীষ।

ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। রমনা থানার মামলা নং- ০৪/২০০৯। মামলাটিতে তাকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিặত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির স্থগিতাদেশ আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের। মামলা নং- ০৭/২০১৭। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের আজীবন সদস্য হওয়া, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে কোন রাজনৈতিক মামলার শিকার না হওয়া, ২০০৮ সাল এবং ২০১৮ সালের নমিনেশন ইঞ্জিয়ারিং বিএনপির আপামর কর্মী-সমর্থকদেরকে হারুনুর রশীদের প্রতিকূলে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ গণবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নেতারা ধানের শীষে ভর করায় উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটাররাও ক্রমাগত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ভোটের প্রচারনায় একাধিকবার বিব্রত হতে হয়েছে তাঁকে। সর্বোপরি ধানের শীষের কর্মীদের দ্বারা প্রতিযোগী প্রার্থী কর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর এবং হুমকি ধমকি দেওয়ায় মো. হারুনুর রশীদের মত বরেণ্য প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

বিপরীতক্রমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের তোয়াক্কা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের পক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং পৌরসভা বিএনপি, যুবদল (বিএনপি এবং যুবদলের কমিটি স্থগিত), স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বৃহদাংশ। ২০২৩ সালের আটাশ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেফতার হয়ে রাজনৈতিক মামলায় তিন মাস কারাবরণ করেন মো. আব্দুল হান্নান। মামলা নং- জিআর ৩৫৪/২০২৩। দুই দশকের অধিক সময় ধরে চালিয়ে আসা দান-অনুদান কার্যক্রম শ্রমিক এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষকে তাঁর অনুকূলে প্রভাবিত করেছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণকৃত কৃষি উপকরণ প্রভাবিত করেছে কৃষি নির্ভর শ্রেণীকে। ইউনিয়ন ইউনিয়নে তাঁর নির্মিত রাস্তাঘাট এবং মসজিদ প্রভাবিত করেছে দল নিরপেক্ষ সাধারণ ভোটারদের। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের মনোনয়ন প্রবঞ্চনা, চলমান নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে ধানের শীষের কর্মীদের দ্বারা তাঁর প্রচার মাইক ভাঙচুর, নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর, কর্মীদের উপর হামলা মত ঘটনায় রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের সহানুভূতিও পাচ্ছেন তিনি। সর্বপরি দল নিরপেক্ষ প্রতীক হওয়ায় ভোটমুখী আওয়ামীলীগের সাধারণ ভোটারদের ভোটও তার ব্যালটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কল্যাণমুখী রাজনীতি এবং বিএনপির দ্বিবিভক্ত পরিস্থিতিতে চাঁদপুর-০৪ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধীতে পরিনত হয়েছে জামায়াত। শুরুর দিকে এটি জামায়াতের ‘সি’ ক্যাটাগরির আসন থাকলেও বর্তমানে তাদের ‘এ’ তালিকাভুক্ত আসন এটি। এ আসনে কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খীসহ বর্তমানে জামায়াতের আশি হাজার লিস্টেড ভোটার রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যা মোট ভোটারের ২০ শতাংশ। উপজেলার হিন্দু ভোটেও এবার ভাগ বসাবে জামায়াত। ব্যাপক পরিমানে নারী ভোট টানতে নিরবে কাজ করছেন তাঁরা। জামায়াত প্রার্থী একজন শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক সমাজেও এর বিস্তর প্রভাব পড়েছে। বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কার্যক্রম সুবিধা এনে দিচ্ছে জামায়াতকে। নির্বাচন পরবর্তী হয়রানীর আশঙ্কায় জামায়াতকে বিএনপির উত্তম বিকল্প ভাবছেন এলাকায় বসবাস করা সাধারণ আওয়ামীলীগাররা। ত্রিমুখী লড়ায়ের নির্বাচনী সমীকরণ যদি ধানের শীষের পক্ষে ঝুঁকে যায়, সেক্ষেত্রে হারুনুর রশদিকে ঠেকাতে চিংড়ীর ভোট দাঁড়িপাল্লায় ঝুঁকে গেলে বিস্ময়ের কিছু থাকবেনা।

গণফোরামের মুনীর চৌধুরী (উদীয়মান সূর্য) আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসাইনের (ঘুড়ি) ভোট নির্বাচনী সমীকরণকে প্রভাবিত করবেনা। কিন্তু চৌদ্দ দলীয় মহাজোটের প্রধান মিত্র জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল), ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশ (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ভোটের বাক্সে যে ন্যূনতম প্রভাব ফেলবে তাতেও দুলে উঠবে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-০৪ আসনের সম্ভাব্য সাংসদ হিসেবে চিংড়ী প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানকেই এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে-অকারণে বদলায়। সকালে-বিকালে বদলায়। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে তেমনি বদলে যেতে পারে ভোটারের মন। বদলে যেতে পারে ভোটের হিসেব নিকেশ। ফলে বদলাবে ভোটের সমীকরণ। ধানের শীষ আর চিংড়ীর মাঝে ভোটের কাড়াকাড়ি যত বাড়বে, সমানুপাতিক হারে বাড়বে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের সম্ভাবনা।