ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরিয়তপুরের মমিন দিদারের কাছে জিম্মি চাঁদপুরের কৃষক

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে মাটিখেকো ভেকু (এক্সকাভেটর) সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ কৃষকরা। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ভেকুর তাণ্ডব—কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ‘ঝিল কেটে প্রজেক্ট’ করার নামে কৃষিজমি দখল এবং টপসয়েল বিক্রির অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিয়তপুরের প্রভাবশালী ব্যক্তি মমিন দিদারের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চালিতাতলী মৌজার চরাঞ্চলে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে উর্বর কৃষিজমি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের জীবিকা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, চালিতাতলী চরের জমিতে বহু বছর ধরে তারা কৃষিকাজ করে আসছেন। প্রতি মৌসুমে সরিষা, আলু, ধনিয়া, কালিজিরা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এই চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে ভেকুর দাপটে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাত হলেই ভেকু নিয়ে এসে জমি কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলে হুমকি দেয়। আমরা এখন নিজেদের জমিতেই অসহায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির নীরব সমর্থনে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। ফলে দিনের পর দিন কৃষিজমি ধ্বংস হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা জানান, অবিলম্বে অবৈধ ভেকু কার্যক্রম বন্ধ না করলে পরিবেশ, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

শরিয়তপুরের মমিন দিদারের কাছে জিম্মি চাঁদপুরের কৃষক

আপডেট : ১২:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১১নং ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে মাটিখেকো ভেকু (এক্সকাভেটর) সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ কৃষকরা। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ভেকুর তাণ্ডব—কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ‘ঝিল কেটে প্রজেক্ট’ করার নামে কৃষিজমি দখল এবং টপসয়েল বিক্রির অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিয়তপুরের প্রভাবশালী ব্যক্তি মমিন দিদারের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চালিতাতলী মৌজার চরাঞ্চলে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে উর্বর কৃষিজমি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের জীবিকা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, চালিতাতলী চরের জমিতে বহু বছর ধরে তারা কৃষিকাজ করে আসছেন। প্রতি মৌসুমে সরিষা, আলু, ধনিয়া, কালিজিরা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এই চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে ভেকুর দাপটে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাত হলেই ভেকু নিয়ে এসে জমি কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলে হুমকি দেয়। আমরা এখন নিজেদের জমিতেই অসহায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির নীরব সমর্থনে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। ফলে দিনের পর দিন কৃষিজমি ধ্বংস হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা জানান, অবিলম্বে অবৈধ ভেকু কার্যক্রম বন্ধ না করলে পরিবেশ, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।