যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে এর জবাবে আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহ সীমিত করে “জলদস্যুদের মতো” আচরণ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত অন্যান্য রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য, নতুবা কারও জন্য নয়।”
ইরানের এই হুঁশিয়ারি আসে এমন সময়ে, যখন আইআরজিসি দাবি করেছে যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা নতুন করে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরে এটি ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন নসর-২’-এর পঞ্চম ধাপে চালানো হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে—ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) একটি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সামরিক যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম রাখার বড় গুদাম এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরের ওই হামলায় এসব স্থাপনা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত” হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সর্বশেষ এই হুঁশিয়ারির আগে তেহরান ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তাদের “অবৈধ” সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এই জলপথের “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং এর “রক্ষক” হিসেবে কাজ করবে।
ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা আরও বাড়ানো হবে। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, “অন্যরা” এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আবারও ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কথা উল্লেখ করেন।
খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। ট্রাম্প বারবার এটিকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র “তেল নেওয়ার জন্য” দ্বীপটি দখল করতে পারে।
সূত্র: আরটি



























