মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে এবার তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি)। চাঁদপুরে এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে তথ্য প্রদানকারী মো. শাওন কাজী (২৫)কে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার ভাড়া বাসা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিনগত রাতে শহরের কোড়ালিয়া রোডস্থ ভূইয়া বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল। পরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রহমত উল্লাহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।

কারাদন্ড প্রাপ্ত মো. শাওন কাজী শরীয়তপুর জেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রণখোলা শিবপুর গ্রামের মো. মকবুল হোসেন কাজীর ছেলে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম শহরের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নিশ্চিত সেই অভিযান ব্যর্থ হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিএনসির নজর পড়ে তাদের তথ্য প্রদানকারী শাওনের ওপর।
পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে ওই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর নম্বর পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। এরপর শাওনকে কোড়ালিয়া রোডস্থ তার ভাড়া বাসায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার সহধর্মিণীও মাদক ব্যবসায়ীকে পালাতে সহায়তার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি। একই সঙ্গে বাসা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রদানকারীর কারণে আমাদের দপ্তরের বদনাম হয়। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে দিনরাত কাজ করি। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার মুঠোফোন থেকে আরও কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিএনসির এই কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে জেলার সর্বত্র অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারি কিংবা তাদের সহযোগী-কেউই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না।
সূত্রে আরো জানা যায়, মো. শাওন কাজী গত প্রায় বছর খানেক যাবত চাঁদপুরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। সে জেলা বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রদানকারী (সোর্স) হিসেবে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে পরিচয় প্রদান করে তাদের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতো। এছাড়াও সে প্রায় সময় বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভূয়া তথ্য প্রদান করে তাদের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতো।
এদিকে আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূয়া তথ্য দিয়ে তথ্য প্রদানকারীরা (সোর্সরা) যেন বিশেষ সুবিধা গ্রহণ না করতে পারে এবং সাধারণ মানুষরা যেন তাদের ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যে বিশেষ আহবান জানান চাঁদপুরের সাধারণ মহলের লোকজনেরা।

























