চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রাঃ) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আল মামুন টানা ১২ বছর মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। তবুও তার চাকরি ঠিক বহাল ছিল। সরকারি এমপিও ইনডেক্স (C 2000896) সচল ছিল। মাসে মাসে এমপিওর সরকারি বেতনের টাকাও একাউন্টে যোগ হতো। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রাঃ) মহিলা দাখিল মাদ্রাসায়। মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ তার প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক আল মামুনের ১২ বছরের অনুপস্থিতির কথা জানাননি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কিংবা মাদ্রাসা অধিদপ্তর বা বোর্ডকে।
প্রতারক শিক্ষক আল মামুন এমএলএ কোম্পানির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২ বছর পালিয়ে ছিল। প্রতারণায় অভিযুক্ত সেই সহকারী শিক্ষক আল মামুনের ১২ বছর মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির তথ্য গোপণ ও জালিয়াতি করে তার ইনডেক্স সচল রাখেন মাদ্রাসা সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ। সুপারের এই তথ্য গোপণ জালিয়াতির যোগসাজসে প্রতারণা করে আইন নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিধিবহির্ভূত ভাবে ১২ বছর পর আবারও প্রতারক শিক্ষক আল মামুন ফিরে আসে। এবং মাদ্রাসায় স্বপদে পুনঃযোগদান করেন। যা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৬ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এমপিও নীতিমালা ২০২৬ এর ১৮ ধারার ১ এর (গ) উপধারায় বলা আছে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা বোর্ডের নির্দেশ প্রতিপালন না করলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও বাতিল করা হবে। এবং ফৌজধারী দন্ডবিধির ধারায় মামলার বিধান রয়েছে। টানা ১২ বছর মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আল মামুন বলেন রাজনীতিক কারণে আমি এলাকায় থাকতে পারিনি। আপনার বিরুদ্ধে কোনো রাজনীতিক মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কোনো রাজনীতিক মামলার তথ্যও জানাতে পারেননি।
তার এলাকাবাসি এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায় তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনীতিক মামলার তথ্য তাদের জানানেই। বরং তিনি প্রতারণা করে মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে ১২ বছর পালিয়েছিল। অনেকেই তার কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা পাবে তথ্য জানা গেছে। কি প্রক্রিয়ায় ১২ বছর পর শিক্ষক আল মামুন চাকরিতে যোগদান করলো ? কোনো রেজুলেশন হয়েছে কিনা ? জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আল মামুন এসে সাদা কাগজে আমার কাছে একটি আবেদন করেন। আমি সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকুরীতে যোগদানের সম্মতি প্রদান করি। এবং তার বেতন বিল স্বাক্ষর শুরু করি।
তার এমপিও ইনডেক্স সচল থাকায় ১২ বছর তার একাউন্টে সরকারি বেতনের টাকা জমা হয়েছে কিনা ? জমা হলে সেই টাকাগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ বলেন ইনডেক্স সচল থাকায় একাউন্টে সরকারি বেতনের টাকা এসেছে কিনা জানিনা। তবে সে অনুপস্থিত থাকায় বেতনের টাকার বিল করা হয়নি। ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক আল মামুন অনুপস্থিত থাকার কারণে এমপিও নীতিমালা বিধিমালার আলোকে তাকে শোকজ নোটিশ করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে সুপার বলেন, মনে নেই দেখতে হবে। মাদ্রাসায় তার এতবছর অনুপস্থিতির তথ্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মাদ্রাসা অধিদপ্তর এবং বোর্ডকে জানাননি কেন ? এমন প্রশ্নে সুপার বলেন সেভাবে জানানো হয়নি। আবার বলেন, মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। বিধি ও নীতিমালা ভঙ্গ করে আপনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন জালিয়াতি করেছেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।
এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন বিষয়টি তদন্ত করা হবে। চাঁদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লা বলেন বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত বিধি ও নীতিমালা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১২ বছর পর হঠা মোঃ আল মামুনের বেতন বিল সুপার ইকরাম হোসেন হামিদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে জনতা ব্যাংকে আসলো। বেতনের টাকা ছাড়ের আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসেবে আপনারা কি ঐ শিক্ষককে প্রশ্ন করেছিলেন ? ১২ বছর পর তিনি কোন নীতিমালা বা রেজুলেশনের ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদিলো এবং বেতন তুলতে এসেছে ? এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ জনতা ব্যাংক শাখার ম্যানেজার কে, এম ফখরুল ইসলামের বলেন এই ধরণের তথ্য জানতে চাওয়া আমাদের এখতিয়ারে পড়েনা। প্রতিষ্ঠান প্রধান মাদ্রাসা সুপার কর্তৃক স্বাক্ষরিত যে বিল ব্যাংকে আসে তার ভিত্তিতে আমরা বেতন দিয়ে থাকি। তবে ফরিদগঞ্জ জনতা ব্যাংক (পিএলসি) ম্যানেজার কে এম ফখরুল ইসলাম এটাও জানিয়েছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া দরকার ছিল।
এই ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া ২১ জুলাই মঙ্গলবার বলেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার সচেতন মহল জানিয়েছেন ১২ বছর ইনডেক্স সচল রাখা ভয়াবহ জালিয়াতি ও তথ্যগোপণ। এবং কোনো নিয়ম বিধি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কোনো রেজুলেশন না করে, প্রতারণার কারণে ১২ বছর পলাতক শিক্ষক আল মামুন চাকরিতে যোগদান যা এমপিও নীতিমালা ২০২৬ সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে শিক্ষক আল মামুন এবং সুপার ইকরাম হোসেন হামিদের বিরুদ্ধে এমপিও নীতিমালা ২০২৬ এর ১৮ এর ১ এর (গ) বিধিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীতিমালা মোতাবেক। সুপার মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ আল মামুন দুই জনেরই এমপিও বাতিল চাকরিচ্যুতসহ ফৌজদারি মামলায় করা উচিত।




























