ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানারচর ইউনিয়ন পরিষদ অরক্ষিত: ৬ বিভাগের অফিস থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • 79

চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বর্তমানে চরম অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে ভূমি অফিস, কৃষি অফিস, পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজসেবাসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কার্যালয় থাকলেও নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিরাপত্তার জন্য কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এছাড়া পরিষদের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অধিকাংশ সময় বিকল বা অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীলদের মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসে এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জন্ম নিবন্ধনের কাজ করা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অধিকাংশ কাজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

সরেজমিনে দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভূমি অফিসে কর্মকর্তা মাহমুদা বেগমকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিত অফিসে আসি এবং মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্য বিভাগের কর্মকর্তারা বা দায়িত্বশীলরা প্রয়োজনে আসেন, আবার বাইরে চলে যান।”

ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাতৃকালী ছুটিতে রয়েছেন। নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শংকর আশ্চর্য অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হানারচর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন এই কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেন বলে জানা গেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য বা মেম্বাররাও নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের প্রয়োজন হলে তারা পরিষদে আসেন, অন্যথায় মাসের পর মাসও অনেক সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায় না।

অন্যদিকে, হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মামুন। তিনি একই সঙ্গে কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। একাধিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের সার্বক্ষণিক তদারকি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদের জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থা এবং সেবা খাতে নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ডিজিটাল সেন্টারের বিকল যন্ত্রপাতি সচল করা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং স্থায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

হানারচর ইউনিয়ন পরিষদ অরক্ষিত: ৬ বিভাগের অফিস থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

আপডেট : ১১:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বর্তমানে চরম অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে ভূমি অফিস, কৃষি অফিস, পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজসেবাসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কার্যালয় থাকলেও নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিরাপত্তার জন্য কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এছাড়া পরিষদের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অধিকাংশ সময় বিকল বা অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীলদের মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসে এখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জন্ম নিবন্ধনের কাজ করা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অধিকাংশ কাজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

সরেজমিনে দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভূমি অফিসে কর্মকর্তা মাহমুদা বেগমকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিত অফিসে আসি এবং মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্য বিভাগের কর্মকর্তারা বা দায়িত্বশীলরা প্রয়োজনে আসেন, আবার বাইরে চলে যান।”

ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাতৃকালী ছুটিতে রয়েছেন। নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শংকর আশ্চর্য অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে হানারচর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন এই কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেন বলে জানা গেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য বা মেম্বাররাও নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের প্রয়োজন হলে তারা পরিষদে আসেন, অন্যথায় মাসের পর মাসও অনেক সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায় না।

অন্যদিকে, হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মামুন। তিনি একই সঙ্গে কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। একাধিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের সার্বক্ষণিক তদারকি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদের জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থা এবং সেবা খাতে নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ডিজিটাল সেন্টারের বিকল যন্ত্রপাতি সচল করা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং স্থায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে।