চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে ওষুধ নিতে আসা বৃদ্ধা লিলুফাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া, গালমন্দ ও পুলিশি ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাইমচর এবিএস ফাজিল মাদরাসার এক শিক্ষকের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ ও পুলিশি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাইমচর উপজেলার বাসিন্দা বৃদ্ধা লিলুফা ডায়াবেটিসের ওষুধ নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে একাধিকবার সরকারি ওষুধ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মোহাম্মদ উল্লাহ তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে গালমন্দ ও পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা লিলুফা চাঁদপুরের সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ওই অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর হাইমচর এবিএস ফাজিল মাদরাসার এক শিক্ষকের সঙ্গেও ভারপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মোহাম্মদ উল্লাহর অসদাচরণ ও পুলিশি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকও এ বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
পরপর এমন অভিযোগ সামনে আসায় হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার পরিবেশ, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ এবং রোগীদের সঙ্গে মানবিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার নির্ভরতার জায়গা। বিশেষ করে অসহায় ও বয়স্ক রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল কর্মচারীদের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট মোহাম্মদ উল্লাহর ( হাসপাতালথেকে ছুটি নিয়েছে) বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।



























