ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা-এর পরলোকগমন বিভিন্ন মহলের শোক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলার সদস্য ও হাজীগঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা-এর পরলোকগমনে হাজীগঞ্জসহ চাঁদপুর জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারী ২.৩৯ মিনিটের রাতে বুধবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫০ কোঠায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক এবং এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক শূন্যতার অনুভূতি।
গোবিন্দ সাহা ছিলেন একজন সুপরিচিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মানিত সদস্য। পালনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বনফুল সংঘের শক্তিশালী ও সংগঠিত হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি দীর্ঘ দিন বনফুল সংঘের সভাপতি দ্বায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রোটারিয়ান রুহিদাস বণিক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, গোবিন্দ সাহা ছিলেন একজন আদর্শ সংগঠক ও মানবিক মানুষ। তাঁর অবদান পূজা উদযাপন পরিষদ কখনো ভুলবে না। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রাণ কৃষ্ণ সাহা (মনা) শোক প্রকাশ করে বলেন, “তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। সংকটে-সম্ভাবনায় সব সময় পাশে থেকে সংগঠনকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
এছাড়াও শোক জানিয়েছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা ফটিক। তিনি বলেন, গোবিন্দ সাহার মতো নির্লোভ ও ত্যাগী নেতৃত্ব খুব কম দেখা যায়। তাঁর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূরু নবী সুমন শোক জানিয়ে বলেন, “তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল।”
এদিকে হাজীগঞ্জ রোটারিয়ান ক্লাবের শাটার প্রেসিডেন্ট ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী এক শোকবার্তায় বলেন, গোবিন্দ সাহা সমাজসেবায় নিবেদিত একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার সাহা বলেন, “তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় আমরা বহু সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।”
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ ও সংগঠনের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গোবিন্দ সাহার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি সংগঠন ও একটি সমাজ একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারালো। ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

চাঁদপুরে আ. লীগ থেকে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

হাজীগঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা-এর পরলোকগমন বিভিন্ন মহলের শোক

Update Time : ০৭:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলার সদস্য ও হাজীগঞ্জ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা-এর পরলোকগমনে হাজীগঞ্জসহ চাঁদপুর জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারী ২.৩৯ মিনিটের রাতে বুধবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫০ কোঠায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক এবং এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক শূন্যতার অনুভূতি।
গোবিন্দ সাহা ছিলেন একজন সুপরিচিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মানিত সদস্য। পালনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বনফুল সংঘের শক্তিশালী ও সংগঠিত হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি দীর্ঘ দিন বনফুল সংঘের সভাপতি দ্বায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রোটারিয়ান রুহিদাস বণিক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, গোবিন্দ সাহা ছিলেন একজন আদর্শ সংগঠক ও মানবিক মানুষ। তাঁর অবদান পূজা উদযাপন পরিষদ কখনো ভুলবে না। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রাণ কৃষ্ণ সাহা (মনা) শোক প্রকাশ করে বলেন, “তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। সংকটে-সম্ভাবনায় সব সময় পাশে থেকে সংগঠনকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
এছাড়াও শোক জানিয়েছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা ফটিক। তিনি বলেন, গোবিন্দ সাহার মতো নির্লোভ ও ত্যাগী নেতৃত্ব খুব কম দেখা যায়। তাঁর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নূরু নবী সুমন শোক জানিয়ে বলেন, “তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল।”
এদিকে হাজীগঞ্জ রোটারিয়ান ক্লাবের শাটার প্রেসিডেন্ট ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারী এক শোকবার্তায় বলেন, গোবিন্দ সাহা সমাজসেবায় নিবেদিত একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার সাহা বলেন, “তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তাঁর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় আমরা বহু সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।”
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ ও সংগঠনের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গোবিন্দ সাহার মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি সংগঠন ও একটি সমাজ একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারালো। ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।