ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে বাবা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণ, ৪ মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক নিষ্ঠুর পিতার বিরুদ্ধে নিজের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ধর্ষণের ফলে ওই স্কুল ছাত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতবাড়ি তালাবদ্ধ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের অভিযুক্ত পিতার বয়স ৩৭। সে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তার মা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী প্রায় চার মাসের গর্ভবতী বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিষয়টি বাড়িতে জানাজানি হলে কিশোরীর মা ও ধর্ষকের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এই ঘটনায় লজ্জা ও আতঙ্কে গত ৭ দিন আগে কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে তার মা পাশের উপজেলায় নানাবাড়ি নিয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চাপা না থেকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভিকটিমের মামার বাড়ি বিষয়টি অবগত হন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলতে থাকলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। এরপর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত পিতার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা আরো জানায়, কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত পিতার গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে যে কোনো সময় মানববন্ধন বা বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনা অবগত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে বাড়িতে তালাবদ্ধ পেয়ে তার নানার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

শাহরাস্তিতে বাবা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণ, ৪ মাসের অন্ত:স্বত্ত্বা

আপডেট : ০৯:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক নিষ্ঠুর পিতার বিরুদ্ধে নিজের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ধর্ষণের ফলে ওই স্কুল ছাত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতবাড়ি তালাবদ্ধ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের অভিযুক্ত পিতার বয়স ৩৭। সে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তার মা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী প্রায় চার মাসের গর্ভবতী বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিষয়টি বাড়িতে জানাজানি হলে কিশোরীর মা ও ধর্ষকের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এই ঘটনায় লজ্জা ও আতঙ্কে গত ৭ দিন আগে কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে তার মা পাশের উপজেলায় নানাবাড়ি নিয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চাপা না থেকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভিকটিমের মামার বাড়ি বিষয়টি অবগত হন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলতে থাকলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। এরপর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত পিতার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা আরো জানায়, কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত পিতার গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে যে কোনো সময় মানববন্ধন বা বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনা অবগত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে বাড়িতে তালাবদ্ধ পেয়ে তার নানার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি।