ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই প্রযুক্তি কি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বাড়াচ্ছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১২:০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 211

Businessman typing on laptop computer keyboard at desk in office.

প্রযুক্তি ডেস্ক:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন গতি আর সক্ষমতার বিষয় প্রাধান্য পায়। আর তাই এআই কীভাবে নিঃশব্দে শক্তি গ্রাস করছে, তা নিয়ে আলোচনা হয় খুব কমই। অফিস-আদালত, কারখানা বা ডিজিটাল সেবায় এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গবেষকেরা এখন এর পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন অতিরিক্ত কার্বন ডাই–অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশতে পারে। মজার বিষয় হলো, এই দূষণ কেবল বিশাল সব এআই মডেলের প্রশিক্ষণের জন্য হচ্ছে না, বরং এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার জটিল সম্পর্ক।

বিভিন্ন এআই টুল আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়ায়, সময় বাঁচায় ও খরচ কমায়। যখন বড় পরিসরে এমনটি ঘটে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, এখানেই লুকিয়ে রয়েছে পরিবেশগত মূল্য। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো বিদ্যুৎ, পরিবহন ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে উৎপাদন বাড়লে পাল্লা দিয়ে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ে। আর তাই ম্যানুফ্যাকচারিং, লজিস্টিকস, খুচরা ব্যবসা এবং ডিজিটাল সেবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও জ্বালানি ব্যবহারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রতিবছর ১০ লাখ টন অতিরিক্ত কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণ শুনতে বিশাল মনে হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি মোট নিঃসরণের খুব সামান্য অংশ। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন না এলে এই নিঃশব্দ দূষণ বাড়তেই থাকবে। অবশ্য মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এআই নিজেই নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। উন্নত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস অপটিমাইজেশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রিড পরিচালনায় এআই অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

এআই প্রযুক্তি কি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বাড়াচ্ছে

আপডেট : ১২:০৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন গতি আর সক্ষমতার বিষয় প্রাধান্য পায়। আর তাই এআই কীভাবে নিঃশব্দে শক্তি গ্রাস করছে, তা নিয়ে আলোচনা হয় খুব কমই। অফিস-আদালত, কারখানা বা ডিজিটাল সেবায় এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় গবেষকেরা এখন এর পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন অতিরিক্ত কার্বন ডাই–অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশতে পারে। মজার বিষয় হলো, এই দূষণ কেবল বিশাল সব এআই মডেলের প্রশিক্ষণের জন্য হচ্ছে না, বরং এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার জটিল সম্পর্ক।

বিভিন্ন এআই টুল আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়ায়, সময় বাঁচায় ও খরচ কমায়। যখন বড় পরিসরে এমনটি ঘটে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, এখানেই লুকিয়ে রয়েছে পরিবেশগত মূল্য। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো বিদ্যুৎ, পরিবহন ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে উৎপাদন বাড়লে পাল্লা দিয়ে জ্বালানির চাহিদাও বাড়ে। আর তাই ম্যানুফ্যাকচারিং, লজিস্টিকস, খুচরা ব্যবসা এবং ডিজিটাল সেবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও জ্বালানি ব্যবহারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রতিবছর ১০ লাখ টন অতিরিক্ত কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণ শুনতে বিশাল মনে হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি মোট নিঃসরণের খুব সামান্য অংশ। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন না এলে এই নিঃশব্দ দূষণ বাড়তেই থাকবে। অবশ্য মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এআই নিজেই নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। উন্নত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস অপটিমাইজেশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রিড পরিচালনায় এআই অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া