সম্প্রতি চাঁদপুরের একটি দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে উপস্থাপন করা হলো।
আপনার রাজনৈতিক সামাজিক ও কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বলুন।
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আর্দশ ও তৎকালীণ সময়ে বাংলাদেশ বির্নিমানে তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচীর প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করি। কারণ, আমার কাছে মনে হয়েছে ১৯ দফা কোন রাজনৈতিক ঘোষণাপত্র ছিলনা। এটি ছিল একটি স্বাধীন, স্বার্বভৌমত্ব ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রের স্বপ্নের বাস্তবিক প্রয়োগ। আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং পরবর্তীতে হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে আমি যুগ্ম আহবায়ক পদে দায়িত্বরত আছি।
বিগত দিনে আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অন্যায়ভাবে আমাকে ডাবল মার্ডার মামলার আসামি’সহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি করা হয়েছে। ওইসব মামলায় আমি জেল খেটেছি। সবশেষ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আমাকে গ্রেফতার এবং বিস্ফোরক মামলার আসামিকে করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ওই মামলায় কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে আমি কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছিলাম। দীর্ঘদিন হাজতবাস, পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানির কারণে আমি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ীকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছি। তারপরও দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক, সামাজিক কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। ব্যক্তিজীবনে আমি একজন ব্যবসায়ী।
প্রশ্ন: আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা হাজীগঞ্জ পৌরসভা কোন পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : আমি মেয়র পদপ্রার্থী।
প্রশ্ন: প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : না, আমি অতিতে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। তবে আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ‘মেয়র’ পদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক এবং আগ্রহী। যেহেতু মানবসেবার উদ্দেশ্যে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি, সেহেতু পদ-পদবী থাকলে মানুষের কাঙ্খিত সেবা করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তাই, আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী।
তাছাড়া, আমার কাছে পৌর সেবার কিছু বিষয়ে ঘাটতি ও অসমাঞ্জস্য মনে হয়েছে। তাই, আমি সেসব ঘাটতি পূরণে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সুষম ও সমবন্টনের মাধ্যমে কাঙ্খিত, উন্নত ও টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়ন করতে চাই। যা পৌরসবাসীর কাছে একজন মেয়র, ১৬ জন কাউন্সিলর ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
প্রশ্ন: আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : অবশ্যই আমি দলীয় সমর্থন ও মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং আমি আশাবাদী, দল আমাকেই মনোনিত করবে। এছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছিনা।
প্রশ্ন: নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : পৌরববাসীর সেবা করার উদ্দেশ্যে জনগণের প্রার্থী হিসেবে দলীয় ব্যানারে ‘মেয়র’ পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল যদি আমাকে মনোনয় বা সমর্থন দেয় ইনশাআল্লাহ্, সম্মানিত ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি বিএনপির চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের নেতা ইঞ্জি. মমিনুল হকের কাছে হাজীগঞ্জ পৌরসভাকে একটি পরিকল্পিত আধুনিক ‘মডেল পৌরসভা’ হিসেবে উপহার দিতে পারবো।

প্রশ্ন: নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : সময়ের সাথে সাথে আমার দৃশ্যমান পরিকল্পনা প্রকাশিত হবে এবং সংবাদকর্মী হিসেবে আপনারা তা দেখতে পারবেন। আর গণসংযোগের বিষয়ে যেহেতু আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। সেহেতু প্রাথমিকভাবে প্রচার-প্রচারণার কাজ শুরু করেছি। তাছাড়া মানব সেবার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি বলেই আমি রাজনৈতিক, শিক্ষা, সামাজিক, মানবিক কাজের সাথে জড়িত ছিলাম, আছি, ইনশা-আল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবো।
প্রশ্ন: নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : অবশ্যই, আমি শতভাগ আশাবাদী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াত চেয়ারপার্সন প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারই সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় বিএনপি গত ১৬ বছর যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা ভুলুণ্ঠিত হতে দিবেন না।
প্রশ্ন: এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : চাঁদপুরের বাণিজ্যিক রাজধানী ‘হাজীগঞ্জ’। সেই বানিজ্যিক রাজধানী হিসেবে একজন ভোটার ‘হাজীগঞ্জ পৌরসভা’কে যেমন দেখতে চান, আমিও হাজীগঞ্জ পৌরসভার ভোটার হিসেবে হাজীগঞ্জ পৌরসভাকে একটি সমৃদ্ধ, পরিকল্পিত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং জবাবদিহিমূলক পৌরসভা দেখতে ও করতে চাই।
প্রশ্ন: উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : হাজীগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। আমি সম্মানিত ভোটদের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ বাজারের দুঃখ খ্যাত ‘যানজট’ নিরসন’সহ উল্লেখিত বিষয় নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করতে চাই। মেয়র হিসেবে আমি আমার কাজে শতভাগ সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।
প্রশ্ন: আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।
মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী : আমি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং আমি এই ওয়ার্ডের ভোটার। এখানে আমার বাসা-বাড়ি রয়েছে। তবে আমার পৈত্রিক নিবাস বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে। আমি একজন ব্যবসায়ী। হাজীগঞ্জ বাজার’সহ রাজধানী ঢাকায় আমার ব্যবসা রয়েছে।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক: 






















