ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট) কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার সপ্তাহব্যাপী বাস্তব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করে অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বা যত্রতত্র ক্লাস সম্পন্ন করছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশ হিসেবে শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পায়। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কর্মমুখী শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যথাযথভাবে বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করছে না। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ পাইলট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বলাখাল জে.এন. উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি দাখিল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার সপ্তাহব্যাপী বাস্তব প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এমন কোড সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বাস্তব প্রশিক্ষণ করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ফি বা অন্যান্য খাতে অর্থ নেওয়া হলেও তাদের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে না। বরং নিজ প্রতিষ্ঠানে কয়েকদিন ক্লাস করিয়ে বা বিকল্পভাবে অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম দেখিয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বাস্তব প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জন করানো। কিন্তু নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো না হলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কারিগরি অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের নামে টাকা নেওয়া হলেও প্রকৃত শিল্প কারখানা বা অনুমোদিত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের কক্ষে কিছু ক্লাস করিয়েই কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
শিক্ষা সচেতন মহলের মতে, সরকারের কারিগরি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। কিন্তু যদি বাস্তব প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং সরকারের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয়

বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপি চাষ: ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

হাজীগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১০:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট) কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার সপ্তাহব্যাপী বাস্তব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করে অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বা যত্রতত্র ক্লাস সম্পন্ন করছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশ হিসেবে শিল্প কারখানা বাস্তব প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পায়। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কর্মমুখী শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যথাযথভাবে বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যান্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করছে না। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ পাইলট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বলাখাল জে.এন. উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি দাখিল ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার সপ্তাহব্যাপী বাস্তব প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এমন কোড সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বাস্তব প্রশিক্ষণ করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ফি বা অন্যান্য খাতে অর্থ নেওয়া হলেও তাদের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে না। বরং নিজ প্রতিষ্ঠানে কয়েকদিন ক্লাস করিয়ে বা বিকল্পভাবে অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম দেখিয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বাস্তব প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জন করানো। কিন্তু নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো না হলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কারিগরি অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে তাদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের নামে টাকা নেওয়া হলেও প্রকৃত শিল্প কারখানা বা অনুমোদিত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের কক্ষে কিছু ক্লাস করিয়েই কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
শিক্ষা সচেতন মহলের মতে, সরকারের কারিগরি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। কিন্তু যদি বাস্তব প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং সরকারের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।