আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার বামপন্থী রাজনীতিক দেইসি আলেজান্দ্রা ওমানা অর্টিজ। সাবেক প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র তারকা ও সাংবাদিক দেইসি সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের সিনেটর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এবং কলম্বিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী বোগোতায় বামপন্থী রাজনৈতিক জোট ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট ফর কলম্বিয়া’র প্রতিনিধি হিসেবে শপথ নেন দেইসি। এর আগে গত মার্চ মাসে দেশটির নর্তে দে সান্তান্দার অঞ্চল থেকে বিপুল ভোটে সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি।

দেইসির রাজনৈতিক যাত্রা এবং জীবনপ্রণালী বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১৭ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পে পা রাখেন তিনি, যেখানে ‘আমারান্তা হাঙ্ক’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পান। তবে দু বছরের মাথায় সেই ক্ষেত্র ছেড়ে তিনি রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পূর্ণকালীন রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষের প্রবল সমালোচনা ও কটু কথার মুখে পড়তে হলেও পিছু হটেননি দেইসি। জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পে কাজ করা কোনো নারী কেন দেশের জনগণের সেবা করার স্বপ্ন দেখতে পারবেন না? নিজের দাবির পক্ষে উদাহরণ হিসেবে তিনি ইতালির সাবেক সংসদ সদস্য ইলোনা স্ট্যালারের নাম উল্লেখ করেন, যিনিও প্রাপ্তবয়স্কদের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর রাজনীতিতে সফল হয়েছিলেন।
বর্তমানে সিনেটর হিসেবে দেইসির প্রধান লক্ষ্য প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পের কর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এই খাতের কর্মী ও শিল্পীদের বিভিন্ন এজেন্সি ও কোম্পানির শোষণ থেকে রক্ষা করতে উপযুক্ত শ্রমনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিল উত্থাপন করবেন।
এছাড়া নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডায় নারীর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন কুকুটা শহরে জন্ম নেওয়া এই সিনেটর।
এক ভাষণে দেইসি বলেন, ‘আমার জীবনসংগ্রাম আমাকে বৈষম্য ও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে শিখিয়েছে। সমাজ আমাদের কাজ ঠিকই দেখে কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে আমাদের কথা বলার সুযোগ দিতে চায় না। আমি সিনেটে সেই বঞ্চিত মানুষদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরব।‘
উল্লেখ্য, কলম্বিয়ার বর্তমান রাজনীতিতে হিস্টোরিক প্যাক্ট অন্যতম প্রভাবশালী জোট। সর্বশেষ সিনেট নির্বাচনে জোটটি মোট ভোটের ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ পেয়ে ২৫টি আসনে জয়লাভ করে, যা দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দেয়।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, ছবি: সংগৃহীত



























