শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শুনে শামীমা আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন উপজেলার ভোলদীঘি কামিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মৃত মুন্নি উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউপির মাইজের বাড়ির (ষষ্ঠী বাড়ি) মো. শামীম হোসেনের একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাইয়ের আদরের বোন। সে চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর মুন্নি জানতে পারে, সে ২ টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ খবর শোনার পরপরই সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ নুরুন্নবী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র মানসিক চাপ ও শোকজনিত কারণে তার শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হয়ে থাকতে পারে। মুন্নির মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, মুন্নির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সে আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফলাফল জীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। কোনো শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।
চেড়িয়ারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ বিএসসি বলেন, মুন্নি অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও সুবোধ শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। ফলাফলকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে পরিবার ও শিক্ষকদের আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।




























