চলনবিলে বক দিয়ে বক শিকারের অপরাধে তিন পাখি শিকারির জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে উপজেলা প্রশাসন এবং রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নির্দেশে সিংড়ার চলনবিলের আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান, পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা।

অভিযানে তিন পাখি শিকারি সহ অর্ধশত বকপাখি উদ্ধার করা হয়। ধ্বংস করা হয় পোষা বক দিয়ে বক শিকারের বিশেষ ভাবে তৈরি কিল্লা ঘরের দশটি ফাঁদ।
পরে আটক ওই তিন শিকারির একদিন জেল ও দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রামমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পূর্বভেংড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৫), মকছেদ আলী (৫০) ও আবু হানিফ (৪০)।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুল, প্রভাষক নাহমাদুল হক, পরিবেশ আবু বক্কর সিদ্দিক, আতিকুর রহমান, অনিক আহমেদ, রিপন হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, শফিকুল ইসলাম প্রমূখ। পরে বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন পরিবেশ কর্মীরা।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে পাখি শিকারের পরপরই হত্যা করে বস্তা ভর্তি বক পাখি পৌর শহরের পারসিংড়া বেদে পল্লীতে গোপনে বিক্রয় করছিল একটি চক্র। সেই সূত্র ধরেই চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে ধান ক্ষেতে বিশেষ ভাবে তৈরি কিল্লা ঘরের ফাঁদে পাখি শিকারের খবর পেয়ে প্রশাসনের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক সরগরম পরে যায়।
তিনি আরো জানান, ২০১২ সাল থেকে সংগঠনের সদস্যরা চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাঁকডাকা ভোরে দুর্গম এলাকায় ছুটে যান এবং বিল পাড়ের মানুষদের সচেতন করছেন।























