ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা, ফিরে এসে চুপচাপ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 76

খুলনায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদরের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। বুধবার (০৭ অক্টোবর) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক প্রথমে তাকে রিকশায়, পরে মোটরসাইকেলে করে নগরীর কালীবাড়ি ঘাটের দিকে নিয়ে যায়। প্রায় ৪০ মিনিট পরে তাকে আবার রিকশায় করে কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু ফিরে এসে কারা তাকে নিয়ে গেছে, এ ব্যাপারে কোনও কথা বলছেন না তন্ময় মণ্ডল।

এদিকে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মতো জনবহুল জায়গা থেকে এভাবে রেজিস্ট্রার তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কালীবাড়ি এলাকায় খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ দৌরাত্ম্য বেশি বলে জানান লোকজন। এর আগে বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় বি কোম্পানির নাম এসেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের খাবারের বিরতিতে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বের হয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। সঙ্গে সঙ্গে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। দুজন তার সঙ্গে রিকশায় উঠে যায়। একজন রিকশায় উঠে তার মুখে চেপে ধরে। কিছু দূর পর তাকে মোটরসাইকেলে তুলে কালীবাড়ি রোডের একটি দোকানে নিয়ে যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘাট এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকে কার্যালয়ে ফিরে আসতে দেখা যায়। এ সময় তিনি আতঙ্কিত ছিলেন।

ফিরে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘কয়েকজন যুবক কালীবাড়ি ঘাটের কাছে একটি দোকানে নিয়ে কিছু কাগজ সঠিক কিনা দেখতে দিয়েছে। কাজ শেষ তারাই রিকশায় তুলে দিয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। আর কোনও কথা বলতে চাই না।’

পরে আবার সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করতে আসছি—দুর্নীতি করার জন্য আসি নাই। কোনও দুর্নীতিবাজদের সাথে আমি আপস করবো না, প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে—দুর্নীতি করে আমাকে কেউ টাকা দিতে পারবে না, কারও টাকা আমি অন্যায়ভাবে নেবো না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। কিছু সময়ের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ফিরে আসেন। কিছু কাগজপত্র দেখতে তাকে কয়েকজন ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। পরে ছেড়ে দিয়েছে তাকে। তাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

কচুয়ার খিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের দাবি শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের

দিনদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা, ফিরে এসে চুপচাপ

আপডেট : ১০:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

খুলনায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদরের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। বুধবার (০৭ অক্টোবর) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক প্রথমে তাকে রিকশায়, পরে মোটরসাইকেলে করে নগরীর কালীবাড়ি ঘাটের দিকে নিয়ে যায়। প্রায় ৪০ মিনিট পরে তাকে আবার রিকশায় করে কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু ফিরে এসে কারা তাকে নিয়ে গেছে, এ ব্যাপারে কোনও কথা বলছেন না তন্ময় মণ্ডল।

এদিকে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মতো জনবহুল জায়গা থেকে এভাবে রেজিস্ট্রার তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কালীবাড়ি এলাকায় খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ দৌরাত্ম্য বেশি বলে জানান লোকজন। এর আগে বাবা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় বি কোম্পানির নাম এসেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের খাবারের বিরতিতে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বের হয়ে একটি রিকশায় ওঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। সঙ্গে সঙ্গে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। দুজন তার সঙ্গে রিকশায় উঠে যায়। একজন রিকশায় উঠে তার মুখে চেপে ধরে। কিছু দূর পর তাকে মোটরসাইকেলে তুলে কালীবাড়ি রোডের একটি দোকানে নিয়ে যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘাট এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকে কার্যালয়ে ফিরে আসতে দেখা যায়। এ সময় তিনি আতঙ্কিত ছিলেন।

ফিরে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘কয়েকজন যুবক কালীবাড়ি ঘাটের কাছে একটি দোকানে নিয়ে কিছু কাগজ সঠিক কিনা দেখতে দিয়েছে। কাজ শেষ তারাই রিকশায় তুলে দিয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। আর কোনও কথা বলতে চাই না।’

পরে আবার সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করতে আসছি—দুর্নীতি করার জন্য আসি নাই। কোনও দুর্নীতিবাজদের সাথে আমি আপস করবো না, প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে—দুর্নীতি করে আমাকে কেউ টাকা দিতে পারবে না, কারও টাকা আমি অন্যায়ভাবে নেবো না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। কিছু সময়ের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ফিরে আসেন। কিছু কাগজপত্র দেখতে তাকে কয়েকজন ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। পরে ছেড়ে দিয়েছে তাকে। তাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’