ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে বাচ্চু মৃধার বাড়িতে সন্দেহজনক আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৫২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • 32

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে গভীর রাতে বাচ্চু মৃধার বসতবাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে সন্দেহজনক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাচ্চু মৃধা ও তার পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে ছিলেন। আগুনের সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাচ্চু মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে তিনি বসতঘরের পাশে অবস্থিত ছোট একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তাৎক্ষণিক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে বাচ্চু মৃধার পরিবারের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিভে যাওয়ায় পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হলে তাদের আর ঘটনাস্থলে আসতে হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বাচ্চু মৃধা বলেন, “মিথ্যা মামলায় আমাকে জেলে পাঠানোর পর আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এখন আবার পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে নীরবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”

তিনি আরও বলেন, যে পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লেগেছে, সেখানে কোনো রান্নাবান্নার কাজ হতো না। এমনকি ঘরটিতে বিদ্যুতের সংযোগও নেই। তাই তাঁর মতে, স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা নেই। তিনি দাবি করেন, একটি মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পুরোনো বিরোধের জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে তাঁর বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি, আগুন লাগার স্থান থেকে দুইজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে রাতের অন্ধকারে আমার কাছে ভালো লাইট না থাকায় তাদের চেহারা দেখতে পারিনি।”

বাচ্চু মৃধার বোন বলেন, “আমার ভাইয়ের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমার ভাই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের উচিত আমার ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

জানা যায়, এর আগে বাচ্চু মৃধার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলা বিচারাধীন থাকায় নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানিয়েছেন বাচ্চু মৃধা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাব্দেরগাঁও আব্দুল রহমান মৃধা জামে মসজিদে তালা দেওয়া এবং মুয়াজ্জিনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাচ্চু মৃধাকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে তার বসতবাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ঘরে গভীর রাতে আগুনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি করা দুই ব্যক্তি কারা এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাচ্চু মৃধা ও তার স্বজনরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

মতলবে ১৫ মামলার আসামি মেজর ডালিমসহ গ্রেফতার ৬

ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে বাচ্চু মৃধার বাড়িতে সন্দেহজনক আগুন, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

আপডেট : ০৮:৫২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে গভীর রাতে বাচ্চু মৃধার বসতবাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে সন্দেহজনক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাচ্চু মৃধা ও তার পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে ছিলেন। আগুনের সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাচ্চু মৃধার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে তিনি বসতঘরের পাশে অবস্থিত ছোট একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। তাৎক্ষণিক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এদিকে বাচ্চু মৃধার পরিবারের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিভে যাওয়ায় পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হলে তাদের আর ঘটনাস্থলে আসতে হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বাচ্চু মৃধা বলেন, “মিথ্যা মামলায় আমাকে জেলে পাঠানোর পর আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এখন আবার পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে নীরবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”

তিনি আরও বলেন, যে পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লেগেছে, সেখানে কোনো রান্নাবান্নার কাজ হতো না। এমনকি ঘরটিতে বিদ্যুতের সংযোগও নেই। তাই তাঁর মতে, স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা নেই। তিনি দাবি করেন, একটি মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। পুরোনো বিরোধের জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে তাঁর বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি, আগুন লাগার স্থান থেকে দুইজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে রাতের অন্ধকারে আমার কাছে ভালো লাইট না থাকায় তাদের চেহারা দেখতে পারিনি।”

বাচ্চু মৃধার বোন বলেন, “আমার ভাইয়ের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমার ভাই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের উচিত আমার ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

জানা যায়, এর আগে বাচ্চু মৃধার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলা বিচারাধীন থাকায় নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানিয়েছেন বাচ্চু মৃধা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাব্দেরগাঁও আব্দুল রহমান মৃধা জামে মসজিদে তালা দেওয়া এবং মুয়াজ্জিনকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাচ্চু মৃধাকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে তার বসতবাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ঘরে গভীর রাতে আগুনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি করা দুই ব্যক্তি কারা এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাচ্চু মৃধা ও তার স্বজনরা।