ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর দেশের পরবর্তী কৌশলগত গ্যাস হাব হওয়ার অপার সম্ভাবনা; প্রকৌশলী মো: মীর ফজলে রাব্বী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • 121

ছবি-ত্রিনদী

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ প্রেক্ষাপটে চাঁদপুর জেলা শুধু একটি গ্যাস বিতরণ এলাকা নয়; বরং যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত গ্যাস হাব (Strategic Gas Hub) হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যমান গ্যাস অবকাঠামো, নদীপথের সুবিধা, সম্ভাব্য শিল্পায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে চাঁদপুরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চাঁদপুর জেলায় ১৯৮৫ সালের ১ আগস্ট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সদর, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলায় গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান। জেলার গ্যাসের উৎস কুমিল্লার বিজরা, যা চাঁদপুর টাউন বর্ডার স্টেশন (টিবিএস) থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১,০০০ পিএসআই ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি সোর্স লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সোর্স লাইনে গ্যাসের চাপ গড়ে প্রায় ৭০০ পিএসআই। মূলত চাঁদপুরের গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে এলএনজি-নির্ভর।

চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ—এই দুটি টাউন বর্ডার স্টেশনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৫০ পিএসআই চাপে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিতরণ করা হচ্ছে। তিনটি সিএনজি স্টেশনে ১৫০ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অন্যান্য সিএনজি ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য পৃথক ১৫০ পিএসআই চাপের বিতরণ নেটওয়ার্ক নির্মাণাধীন রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নতমানের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

জেলায় প্রায় ৬৮০ কিলোমিটারেরও বেশি বিভিন্ন ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক বিদ্যমান, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে ১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৬টি সিএনজি স্টেশন, ৪টি ক্যাপটিভ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ২১০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ১৪ হাজারেরও বেশি আবাসিক গ্রাহক গ্যাস সুবিধা গ্রহণ করছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

তবে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনও একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে। আবাসিক ও অন্যান্য নন-বাল্ক গ্রাহকের চাহিদা প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক ২২ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২২ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ভবিষ্যতে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পেলে এই চাহিদা আরও বাড়বে।

চাঁদপুরে ইতোমধ্যে একটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। পাশাপাশি হাইমচর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সদর উপজেলায় একটি ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের চাহিদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চাঁদপুরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীবেষ্টিত এই জেলা সারা বছর নৌপরিবহনের জন্য উপযোগী। প্রতিদিন ঢাকা, বরিশাল, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে প্রায় ৮.০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেতুর চাঁদপুর প্রান্তের হরিণাঘাট এলাকা চাঁদপুর টিবিএস থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার এবং গভীর নাব্যতাসম্পন্ন চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ভোলা থেকে উৎপাদিত গ্যাস প্রস্তাবিত চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতুর মাধ্যমে পাইপলাইনে এনে চাঁদপুর টিবিএসের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে নদীপথে বিশেষায়িত ভ্যাসেলে গ্যাস এনে চাঁদপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় খালাস করে টিবিএসের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে চাঁদপুরকে কেন্দ্র করে বিজরা হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামমুখী জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে দেশের জ্বালানি নীতিতে বিকল্প উৎস, এলএনজি আমদানি এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদপুরের বিদ্যমান অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এটি শুধু একটি গ্যাস বিতরণ এলাকা হিসেবেই নয়, বরং দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সময় এসেছে চাঁদপুরকে কেবল একটি জেলা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার। যথাযথ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে চাঁদপুর দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

চাঁদপুর দেশের পরবর্তী কৌশলগত গ্যাস হাব হওয়ার অপার সম্ভাবনা; প্রকৌশলী মো: মীর ফজলে রাব্বী

আপডেট : ১০:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ প্রেক্ষাপটে চাঁদপুর জেলা শুধু একটি গ্যাস বিতরণ এলাকা নয়; বরং যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত গ্যাস হাব (Strategic Gas Hub) হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যমান গ্যাস অবকাঠামো, নদীপথের সুবিধা, সম্ভাব্য শিল্পায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—সব মিলিয়ে চাঁদপুরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চাঁদপুর জেলায় ১৯৮৫ সালের ১ আগস্ট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সদর, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলায় গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান। জেলার গ্যাসের উৎস কুমিল্লার বিজরা, যা চাঁদপুর টাউন বর্ডার স্টেশন (টিবিএস) থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১,০০০ পিএসআই ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যাসের দুটি সোর্স লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সোর্স লাইনে গ্যাসের চাপ গড়ে প্রায় ৭০০ পিএসআই। মূলত চাঁদপুরের গ্যাস সরবরাহ বর্তমানে এলএনজি-নির্ভর।

চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ—এই দুটি টাউন বর্ডার স্টেশনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৫০ পিএসআই চাপে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিতরণ করা হচ্ছে। তিনটি সিএনজি স্টেশনে ১৫০ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অন্যান্য সিএনজি ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য পৃথক ১৫০ পিএসআই চাপের বিতরণ নেটওয়ার্ক নির্মাণাধীন রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নতমানের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

জেলায় প্রায় ৬৮০ কিলোমিটারেরও বেশি বিভিন্ন ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক বিদ্যমান, যা ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে ১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৬টি সিএনজি স্টেশন, ৪টি ক্যাপটিভ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ২১০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ১৪ হাজারেরও বেশি আবাসিক গ্রাহক গ্যাস সুবিধা গ্রহণ করছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

তবে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনও একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে। আবাসিক ও অন্যান্য নন-বাল্ক গ্রাহকের চাহিদা প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক ২২ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২২ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ভবিষ্যতে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পেলে এই চাহিদা আরও বাড়বে।

চাঁদপুরে ইতোমধ্যে একটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। পাশাপাশি হাইমচর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সদর উপজেলায় একটি ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের চাহিদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

চাঁদপুরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীবেষ্টিত এই জেলা সারা বছর নৌপরিবহনের জন্য উপযোগী। প্রতিদিন ঢাকা, বরিশাল, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে প্রায় ৮.০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেতুর চাঁদপুর প্রান্তের হরিণাঘাট এলাকা চাঁদপুর টিবিএস থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার এবং গভীর নাব্যতাসম্পন্ন চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ভোলা থেকে উৎপাদিত গ্যাস প্রস্তাবিত চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতুর মাধ্যমে পাইপলাইনে এনে চাঁদপুর টিবিএসের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে নদীপথে বিশেষায়িত ভ্যাসেলে গ্যাস এনে চাঁদপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় খালাস করে টিবিএসের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে চাঁদপুরকে কেন্দ্র করে বিজরা হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামমুখী জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

বর্তমানে দেশের জ্বালানি নীতিতে বিকল্প উৎস, এলএনজি আমদানি এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চাঁদপুরের বিদ্যমান অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এটি শুধু একটি গ্যাস বিতরণ এলাকা হিসেবেই নয়, বরং দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সময় এসেছে চাঁদপুরকে কেবল একটি জেলা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার। যথাযথ পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে চাঁদপুর দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।