ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক প্রবাসীকে নিয়ে দুই স্ত্রীর অনশন, পলাতক স্বামী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • 149

ছবি-সংগৃহিত।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও অধিকার দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে অনশন করছেন দুই নারী। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত প্রবাসীর নাম নাজমুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই এলাকার আমবাজ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে অবস্থানকালে নাজমুলের সঙ্গে দুই নারীর আলাদাভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফিরে গত ৪ জুলাই তিনি কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা বাড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে করুনা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিন দিন পর, ৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে জুলেখা খাতুনকেও বিয়ে করেন বলে অভিযোগ।

দুই বিয়ের পর নাজমুল বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে স্বামীর খোঁজে শ্বশুরবাড়িতে এসে একে অপরের সঙ্গে দেখা হয় দুই নারীর। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে তারা নাজমুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিদেশ যাওয়ার আগে নাজমুল আরও একবার বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদেশে যান।

নাজমুলের বাবা আমবাজ আলী বলেন, হেলেঞ্চা বাড়ির মেয়ের সঙ্গে আগে বিয়ের আলোচনা হলেও তখন তা হয়নি। পরে ছেলে অন্যত্র বিয়ে করে তালাক দিয়ে বিদেশে যায়। তার দাবি, দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়েই নাজমুল নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন।

অন্যদিকে নাজমুলের মা শাহনাজ বেগম বলেন, দ্বিতীয় নারী তার ছোট পুত্রবধূর বড় বোন। কয়েক দিন আগে ওই নারীর মা তাকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছেন।

অনশনরত দুই নারী জানান, তারা একে অপরের বিয়ের বিষয়টি জানতেন। তাদের দাবি, নাজমুল দুজনকেই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছেন। এখন স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না নিয়ে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। নাজমুল তাদের দুজনকে নিয়েই সংসার করবেন, নাকি একজনকে—সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে বলে তারা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

এক প্রবাসীকে নিয়ে দুই স্ত্রীর অনশন, পলাতক স্বামী

আপডেট : ০৮:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি ও অধিকার দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে অনশন করছেন দুই নারী। উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত প্রবাসীর নাম নাজমুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই এলাকার আমবাজ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে অবস্থানকালে নাজমুলের সঙ্গে দুই নারীর আলাদাভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফিরে গত ৪ জুলাই তিনি কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা বাড়ি গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে করুনা খাতুনকে বিয়ে করেন। তিন দিন পর, ৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে জুলেখা খাতুনকেও বিয়ে করেন বলে অভিযোগ।

দুই বিয়ের পর নাজমুল বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে স্বামীর খোঁজে শ্বশুরবাড়িতে এসে একে অপরের সঙ্গে দেখা হয় দুই নারীর। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে তারা নাজমুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিদেশ যাওয়ার আগে নাজমুল আরও একবার বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিদেশে যান।

নাজমুলের বাবা আমবাজ আলী বলেন, হেলেঞ্চা বাড়ির মেয়ের সঙ্গে আগে বিয়ের আলোচনা হলেও তখন তা হয়নি। পরে ছেলে অন্যত্র বিয়ে করে তালাক দিয়ে বিদেশে যায়। তার দাবি, দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়েই নাজমুল নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন।

অন্যদিকে নাজমুলের মা শাহনাজ বেগম বলেন, দ্বিতীয় নারী তার ছোট পুত্রবধূর বড় বোন। কয়েক দিন আগে ওই নারীর মা তাকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছেন।

অনশনরত দুই নারী জানান, তারা একে অপরের বিয়ের বিষয়টি জানতেন। তাদের দাবি, নাজমুল দুজনকেই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছেন। এখন স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব না নিয়ে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। নাজমুল তাদের দুজনকে নিয়েই সংসার করবেন, নাকি একজনকে—সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে বলে তারা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।