আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখালে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছেন মেয়র পদপ্রার্থী ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির পাটওয়ারী।
শনিবার দুপুরে বলাখাল ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় দাস বাড়িতে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাজীগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

উঠান বৈঠকে আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির পাটওয়ারী বলেন, “আমি রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। হাজীগঞ্জ পৌরসভাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পৌরবাসীর সেবা পাওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাদের অধিকার। জনগণের করের টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে পৌরসভার উন্নয়ন করা হবে।”
তিনি বলেন, “হাজীগঞ্জকে আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভায় রূপ দিতে হলে শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, সড়কবাতি, যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন। নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পৌরসভা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি পৌরবাসীর প্রতিষ্ঠান। জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করে পৌরসভা পরিচালনা করতে চাই। উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, সেবা হবে সহজলভ্য এবং প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে পৌরসভার সেবা পাবেন।”
আলমগীর কবির পাটওয়ারী বলেন, “হাজীগঞ্জের রয়েছে ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, আলোকিত ও পরিকল্পিত হাজীগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এবং প্রার্থীর কাছে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবির পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি। তিনি হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাগবেষক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন। এছাড়া হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সামাজিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, হাজীগঞ্জ বনফুল সংঘের সাবেক সভাপতি এবং রোটারি ক্লাব অব হাজীগঞ্জের চার্টার প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।




























