রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনীতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (৩২)। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান সোহেল ভোরে তার অটোরিকশা রাখার ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান। শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি দেখতে পান—তার অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় বাড়ির পাশের মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছিলেন। সোহেলের চিৎকারে কয়েকজন মুসল্লি মসজিদ থেকে বের হয়ে অটোরিকশার পিছু নেন। তাদের ওই সময় আটক করতে না পেরে মসজিদের মাইকে চুরির বিষয়টি ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর স্থানীয়রা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ওই অটোরিকশার পিছু নেয়। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে রেজাউল ও সাদিকুল। এ সময় স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনী দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই এই দু’জনের মৃত্যু হয়।
অটোরিকশা মালিক সোহেল বলেন, মধ্যরাতে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও আমি অটোরিকশাটি দেখেছি। এরপর হঠাৎ আমার মেয়ে কান্না করা শুরু করলে তাকে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। তখন অটোরিকশার ঘরে শব্দ শুনতে পাই। এর কিছুক্ষণ পর আমার স্ত্রী বলে, তুমি ঘুমাচ্ছো! আমাদের অটোরিকশা চোর নিয়ে যাচ্ছে! এরপর বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশাটি টেনে ধরার চেষ্টা করলে চোর আমাকেসহ টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমি অটোরিকশা ছেড়ে চিৎকার করলে মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। মাটিতে পড়ে গিয়ে আমার হাঁটুর চামড়া উঠে গেছে। পরে শুনি আমাদের বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারে গণপিটুনীতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দু’জনের মরদেহ সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


























