চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ও আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ। তার আশঙ্কা, এভাবে জনমতকে প্রভাবিত করে ওয়াকফ এস্টেটে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে।
প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


মোতওয়াল্লীর অভিযোগ, ঠিকাদার মো. কবির হোসেন লিটন ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের তদন্তে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা চলমান বলেও জানান তিনি।
আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদারের বিষয়ে মোতওয়াল্লী দাবি করেন, নির্মাণাধীন মার্কেটের তিনটি কক্ষের জন্য তিনি ৩৮ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরে অর্থ পরিশোধ না করেই দোকান হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া মোহাম্মদ আলাল হোসেনের বিরুদ্ধে কবরস্থানের জায়গায় মালিকানা দাবি ও দখলের চেষ্টা এবং সাবেক হিসাবরক্ষক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ও কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কবির হোসেন লিটন বলেন, তার বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচার তৈরি ও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ওয়াকফ এস্টেটের সঙ্গে কাজের হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধের জেরে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
আজাদ রহমান মাসুদ মজুমদার বলেন, দোকান বরাদ্দ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তার অবস্থানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোতওয়াল্লীর বক্তব্য সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
শাহ আলম বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম মেনেই হিসাব পরিচালনা করেছেন এবং কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।
মোহাম্মদ আলাল হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কবরস্থানের জায়গা দখল বা অবৈধ মালিকানা দাবির অভিযোগ সত্য নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
ওয়াকীফ্ মোতওয়াল্লী আহমাদ আলী পাটওয়ারী (রহ.) ১.১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে প্রথমে শুরু করা ওয়াকফ্ এস্টেটটি পর্যায়ক্রমে দায়িত্বে থাকা ৩জন মোতওয়াল্লী ৯.৭০ একর সম্পত্তিতে উন্নীত করেছি। হায়নাদের ছোবলে ওয়াকফ্ এর সম্পত্তি ধরে রেখে পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন কতোটা কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ জানে না। যদি সহজ হতো তা হলে অন্য ওয়াক্বফ এস্টেটও করতে পারতো। সারা দেশে দ্বিতীয়টি নেই।

সাবেক মোতওয়াল্লী মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ এর প্রথম অংশের ছাদ, ১১ দরজা বিশিষ্ট বিশাল ওয়াল এবং ৭৭টি পিলার অপসারণ করে ৫ তলা ফাউন্ডেশন এর উচ্চতা দিয়ে মসজিদ ভবনসহ উঁচু আলো বাতাস এর ব্যবস্থা সম্বলিত, খোলা-মেলা দো’তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়, অত্র অঞ্চলের প্রথম দ্বীনি মাদ্রাসা পরবর্তীতে সিনিয়র মাদ্রাসায় আমরা মোতওয়াল্লী পরিবার ইতোপূর্বে আরো সম্পত্তি দানপূর্বক আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসায় উন্নীত করেছি, গ) জামিয়া আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ঘ) হযরত মনিরুদ্দিন মনাই হাজী (রহ.) হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ঙ) মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আজকের ‘হাজীগঞ্জ’ এর নাম মুসলিম বিশে^ পরিচিত। এ গৌরব হাজীগঞ্জবাসীর। গৌরবের এ শিখরে আমরা পৌছাতে গিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ন স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের চক্রান্তের স্বীকার হয়েছি আমরা বার বার। ছদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়াকফ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি কর্তৃক ওয়াকফ এস্টেটের স্বার্থে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করার নজির বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। যা আমরা করেছি।
মোতাওয়াল্লি বলেন, তারপরেও চক্রান্তকারীদের চক্রান্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার লক্ষ্যে মোতাওয়াল্লি এবং মোতাওয়াল্লি পরিবারকে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে হয়রানি এবং ঐতিহ্যবাহী ওয়াকফ এস্টেটের সুনাম নষ্টকারী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বলে তিনি জানান। অন্যথায় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সেবাকার্যক্রমে আত্মত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে রায় হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। আদালতের রায়ে কেউ টাকা বা সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারী হলে বিধি অনুযায়ী তা পরিশোধ করা হবে। তবে রায়ের আগে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হলে প্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওয়াকফ এস্টেটের সুনাম রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অপপ্রচার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।



















