ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে শাহরাস্তি পৌরসভায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে শাহরাস্তি পৌরশহরের মেহের কালীবাড়ি মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত এই জনসভা শাহরাস্তির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। অতীতের দ্বিধা-বিভক্ত বিএনপির রাজনীতি পেছনে ফেলে দলের সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। নেতাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও জনসমাবেশের বিপুল উপস্থিতি ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হকের বিজয়ের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
জনসভাকে কেন্দ্র করে শাহরাস্তি পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম ও নারী ও পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি ও মাত্রা যোগ করেছে।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিঃ মমিনুল হক বলেন,চাঁদপুর-৫ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এই এলাকার মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। ধানের শীষে ভোট দিয়েই জনগণ তাদের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার করবে। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই নির্বাচন তারই প্রমাণ দেবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পাবে। এই রাষ্ট্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে।তারেক রহমানের ভাবনার ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো তদবির করতে হবে না। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা সব ভাতা অব্যাহত থাকবে। প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। গত ১৬ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে এবং জোরপূর্বক দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি কঠোর হাতে বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কণ্ঠরোধ করা হবে না।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবে। কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি বা সম্পদ দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে তারেক রহমান ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব সুবিধা পেতে কোনো দলীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না—বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেই সবাই উন্নয়নের সুফল পাবে। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।পরিশেষে তিনি তার নির্বাচনী ক্যাম্পিং এ সম্পৃক্ত নেতাকর্মী গণমাধ্যম সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খাঁন সফরী, চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউ সাদাত ওয়াসিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, শাহরাস্তি পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজী, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম ও আক্তার হোসেন, বাংলাদেশ জামিয়াতুল ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরায়েজি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সাবেক সভাপতি সাইফুল করিম মিনার, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বিলাস, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মোল্লা, সাবেক আহ্বায়ক আবুল কাশেম মিয়াজী, সদস্য সচিব জাকির হোসেন নয়ন, মাহবুব হাসান বাবলু, আদনান নোমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবিএম পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, সদস্য সচিব মো. সোলেমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ওলামাদলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান,শ্রমিক দলের সভাপতি হেলাল উদ্দিন সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
আবু মুছা আল শিহাব: 






















