ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পাউবোতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি-ত্রিনদী

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট এবং গ্রামে বিস্তৃত সম্পদের মালিক। একই সঙ্গে তিনি চাঁদপুরের বালু সন্ত্রাসী সেলিম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত বলে জানা যায়।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, যা প্রায় ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেষ্টিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প, সেখানে সম্প্রতি প্রায় ৮ কোটি টাকার ফেরোসিমেন্ট লাইনিং কাজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ কাজ পেলেও প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত প্রকল্প নির্দেশনার সঙ্গে মিলছে না এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়মে দুই স্তরের তারের জাল ব্যবহার না করে এক স্তরে কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্মাণের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, কাজের সময় পাউবোর কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অন্য একটি পক্ষ কাজ পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এতে জড়িত থাকতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একই প্রকল্প এলাকায় ১৪টি ইমারজেন্সি কাজের ঠিকাদারী নিয়েছেন জাহাঙ্গীর ।যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। একই স্থানে বছরের পর বছর জরুরি কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনে সিদ্ধ হস্ত জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ বিষয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির দায় অস্বীকার করেছেন এবং কাজটির অনুমোদন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এতে পুরো বিষয়টি ঘিরে আরও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশের পর চলতি মাসে ৮ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হলেও ৭দিনের মধ্যেই মধ্যেই সেই আদেশ পরিবর্তন করা হয় বলে জানা গেছে। মহাপরিচালককে ম্যানেজ করে সর্বশেষ তাকে ঢাকায় ডিজাইন সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে প্রকল্পের টেন্ডার থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবহিতকরণ সভা

চাঁদপুরে উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পাউবোতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

Update Time : ০৭:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট এবং গ্রামে বিস্তৃত সম্পদের মালিক। একই সঙ্গে তিনি চাঁদপুরের বালু সন্ত্রাসী সেলিম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত বলে জানা যায়।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, যা প্রায় ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেষ্টিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প, সেখানে সম্প্রতি প্রায় ৮ কোটি টাকার ফেরোসিমেন্ট লাইনিং কাজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ কাজ পেলেও প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত প্রকল্প নির্দেশনার সঙ্গে মিলছে না এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়মে দুই স্তরের তারের জাল ব্যবহার না করে এক স্তরে কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্মাণের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, কাজের সময় পাউবোর কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অন্য একটি পক্ষ কাজ পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এতে জড়িত থাকতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একই প্রকল্প এলাকায় ১৪টি ইমারজেন্সি কাজের ঠিকাদারী নিয়েছেন জাহাঙ্গীর ।যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। একই স্থানে বছরের পর বছর জরুরি কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনে সিদ্ধ হস্ত জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ বিষয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির দায় অস্বীকার করেছেন এবং কাজটির অনুমোদন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এতে পুরো বিষয়টি ঘিরে আরও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশের পর চলতি মাসে ৮ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হলেও ৭দিনের মধ্যেই মধ্যেই সেই আদেশ পরিবর্তন করা হয় বলে জানা গেছে। মহাপরিচালককে ম্যানেজ করে সর্বশেষ তাকে ঢাকায় ডিজাইন সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে প্রকল্পের টেন্ডার থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।