ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের হত্যার সন্দেহ

আঁখি আলমগীর মীম

শাহরাস্তি উপজেলার এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আঁখি আলমগীর মীম (২৫) উপজেলার পশ্চিম সূচিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার মিরপুরের আহমেদনগরের একটি বাসায় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তার স্বামী আব্দুর রহিম। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার আয়নাতলি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তবে ঘটনার পর স্বামীর সংগ্রহ করা একটি ভিডিও ফুটেজ এবং একটি ভয়েস রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মীমের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। রোববার (১২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের কাছে মীমের বাবা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিক অমতে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে মীম ও আব্দুর রহিম বিয়ে করেন। এ কারণে দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করা হতো। তাকে হত্যা করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মীমের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে দ্রুত দাফন করারও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলেও জানান তিনি।

মীমের মা মনি বেগমও সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিম মুঠোফোনে দাবি করেন, তার স্ত্রী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা বাবার কাছে পাঠাতেন। ঋণের চাপ ও এনজিও কর্মীদের চাপের কারণে তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সিসিটিভি ক্যামেরায় মীমকে জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত বাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রহিমের মা পারভিন বেগম বলেন, পারিবারিক বিরোধ ও ঋণের চাপ থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মীমের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

জানা গেছে, ঘটনার পর মীমকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মিরপুর থানার অধীনে ঘটেছে। তবে নিহতের স্বজনদের অনুরোধে আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে কথা বলেছি। জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের হত্যার সন্দেহ

শাহরাস্তিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের হত্যার সন্দেহ

Update Time : ১১:০০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাহরাস্তি উপজেলার এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত আঁখি আলমগীর মীম (২৫) উপজেলার পশ্চিম সূচিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার মিরপুরের আহমেদনগরের একটি বাসায় তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তার স্বামী আব্দুর রহিম। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার আয়নাতলি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তবে ঘটনার পর স্বামীর সংগ্রহ করা একটি ভিডিও ফুটেজ এবং একটি ভয়েস রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মীমের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। রোববার (১২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের কাছে মীমের বাবা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিক অমতে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে মীম ও আব্দুর রহিম বিয়ে করেন। এ কারণে দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করা হতো। তাকে হত্যা করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মীমের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে দ্রুত দাফন করারও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলেও জানান তিনি।

মীমের মা মনি বেগমও সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিম মুঠোফোনে দাবি করেন, তার স্ত্রী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা বাবার কাছে পাঠাতেন। ঋণের চাপ ও এনজিও কর্মীদের চাপের কারণে তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সিসিটিভি ক্যামেরায় মীমকে জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত বাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রহিমের মা পারভিন বেগম বলেন, পারিবারিক বিরোধ ও ঋণের চাপ থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মীমের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

জানা গেছে, ঘটনার পর মীমকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মিরপুর থানার অধীনে ঘটেছে। তবে নিহতের স্বজনদের অনুরোধে আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে কথা বলেছি। জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।