চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও,সাহেদাপুর ও নলুয়া প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল পুন: খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। হাসি ফুটেছে হাজারো কৃষকের মুখে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচকাজ পরিচালনা সহজসাধ্য হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। খাল খননের ফলে ৬ টি গ্রামের হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানাগেছে,ওই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, সাহেদাপুর, নলুয়া,খুন্তি,মনোরপুর, বাসাবাড়িয়া ৬টি গ্রামের খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে ছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাষের জমি ডুবে যেত, নষ্ট হতো ক্ষেতের ফসল। কৃষিপণ্য পরিবহনে কৃষকদের পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। এই দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃ খনন করা হয়।
সাহেদাপুর এলাকার কৃষক মুকবুল হোসেন, রোকনুজ্জামান, দিদার হোসেনসহ একাধিক স্থানীয়রা বলেন, “কিছুদিন আগেও এই খালটি ডোবা-নালার মতো হয়ে পড়েছিল। গ্রামের লোকজন সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলত। ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যেত, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি হতো। দুর্গন্ধের কারণে চলাচলও কঠিন ছিল। এখন খাল খননের ফলে পরিবেশ যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি আমরা কৃষকরাও উপকৃত হবো।
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “পানির অভাবে আগে শুধু বর্ষায় একবার ধান চাষ করতে পারতাম। এখন সেচের সুবিধা পাওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এতে বেকারত্ব কমবে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবো। সরকার যেন এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত রাখে—এটাই আমাদের দাবি।
কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ও উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুন নবী সুমন বলেন, এই খালটি পুনঃ খননের ফলে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে স্থানীয় কৃষকদের। এতে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বেকারত্ব কমবে। বিশেষ করে এই খেলাটি খনন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো.আব্দুল আলীম লিটন বলেন,প্রকল্প অনুযায়ী খাল গুলো যথাযথ ভাবে পুনঃ খনন করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। এখন খালটি খননের ফলে এলাকার মানুষের কৃষি কাজসহ সবকাজেই সুবিধা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তপু আহমেদ বলেন, খাল খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ফসল উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে।
শিরোনাম:
কচুয়ার নোয়াগাঁও-সাহেদাপুর খান পুনঃ খননে হাজারো কৃষকের মুখে হাসি
-
ইসমাইল হোসেন বিপ্লব,কচুয়া ॥ - আপডেট : ১২:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- 115
ট্যাগস :
জনপ্রিয়





























