ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন সরকারের কাছে ৪ কার্গো বিমানবোঝাই অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 10

ছবি-সংগৃহিত।

সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে সেপ্টেম্বরে চারটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরব যখন হুতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পাকিস্তানের এই অস্ত্র সরবরাহের খবর সামনে এলো।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঠানো এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এডেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং ইয়েমেনি সেনাদের সহায়তা করছেন।

মিডল ইস্ট আইকে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুতি ইতোমধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার তাইজের আশপাশে সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে এডেনের সঙ্গে যুক্ত করা একটি সেতু ধ্বংস করেছে গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে তাইজ দখল করতে পারলে উত্তরের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বন্দরনগরী এডেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হবে।

এর মধ্যে হুতির বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে সৌদি আরব। হুতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, একদিনে সৌদি আরব ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে শুক্রবার ইয়েমন সরকার জানিয়েছে হুতির অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ৪৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর ফলে হতাহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি হুতি যোদ্ধা।

সৌদি আরবও বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী সানা শহরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের অভিযান’ চালিয়েছে এবং সা’দা এলাকায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তাইজে একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা’-কে লক্ষ্য করে ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে হুতিও। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, একটি ড্রোন তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে হুতি।

মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষা?
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে হুতির বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তায় পাকিস্তান ও তুরস্ক কতটা এগিয়ে যাবে, তা আগস্টে তিন দেশের স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র পর প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত মাসে হুতি লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করার সময় পাকিস্তান ও তুরস্ক অনেকটা পাশেই ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও পাকিস্তান ও তুরস্ককে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ইরান হুতির অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সমর্থন করে আসছে।

অবশ্য, সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প প্রশাসন হুতির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা নেয়নি। যদিও পাকিস্তানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে সামরিক উপদেষ্টা ও অস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে।

হুতি মোকাবিলায় সৌদি আরব আরও মিত্র খুঁজছে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ। ইয়েমেনে দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই উপসাগরীয় প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে সৌদি, প্রস্তুত এক লাখ সেনা  

ইয়েমেন সরকারের কাছে ৪ কার্গো বিমানবোঝাই অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

আপডেট : ১১:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে সেপ্টেম্বরে চারটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরব যখন হুতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পাকিস্তানের এই অস্ত্র সরবরাহের খবর সামনে এলো।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঠানো এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এডেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং ইয়েমেনি সেনাদের সহায়তা করছেন।

মিডল ইস্ট আইকে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুতি ইতোমধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার তাইজের আশপাশে সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে এডেনের সঙ্গে যুক্ত করা একটি সেতু ধ্বংস করেছে গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে তাইজ দখল করতে পারলে উত্তরের সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বন্দরনগরী এডেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হবে।

এর মধ্যে হুতির বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও বাড়িয়েছে সৌদি আরব। হুতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, একদিনে সৌদি আরব ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে শুক্রবার ইয়েমন সরকার জানিয়েছে হুতির অবস্থান লক্ষ্য করে তারা ৪৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর ফলে হতাহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি হুতি যোদ্ধা।

সৌদি আরবও বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী সানা শহরে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের অভিযান’ চালিয়েছে এবং সা’দা এলাকায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তাইজে একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা’-কে লক্ষ্য করে ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে হুতিও। এর মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, একটি ড্রোন তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে হুতি।

মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষা?
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে হুতির বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তায় পাকিস্তান ও তুরস্ক কতটা এগিয়ে যাবে, তা আগস্টে তিন দেশের স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র পর প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত মাসে হুতি লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করার সময় পাকিস্তান ও তুরস্ক অনেকটা পাশেই ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও পাকিস্তান ও তুরস্ককে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ইরান হুতির অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সমর্থন করে আসছে।

অবশ্য, সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প প্রশাসন হুতির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা নেয়নি। যদিও পাকিস্তানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে সামরিক উপদেষ্টা ও অস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে।

হুতি মোকাবিলায় সৌদি আরব আরও মিত্র খুঁজছে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ। ইয়েমেনে দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই উপসাগরীয় প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।