ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে কিশোর গ্যাং ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 156

ছবি-ত্রিনদী

হাজীগঞ্জের কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের কিশোরগ্যাং ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের হামলায় মো. সুকুর আলম নামের (২৫) এক রাজমিস্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি অচেনত অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্য ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়াম’সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের হামলায় রাজমিস্ত্রী সুকুর আলম ও তারেক আহত হন।

গুরুতর আহত সুকুর আলম ওই ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে এবং অপর আহত তারেক (২০) একই বাড়ির বাসিন্দা। সম্প্রতি তাদের হামলায় ইউপি সদস্য ইসমাইল, জাহাবক্স প্রধানীয়া বাড়ির রায়হান, দাসের বাড়ির মিজান ও বড় বাড়ির সাব্বির আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ভাটরা মজুমদার বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি গায়ে হলুদে হঠাৎ করে উপস্থিত হন ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যরা। তারা নাচ-গান শুরু করে অশালীন আচরণ করতে থাকেন। এসময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে বাড়ির মুরুব্বীরা সাউন্ডবক্সের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ওই বাড়ির তারেককে সাউন্ড বক্সের সংযোগ দিতে বলে। সে না বলায় তাকে মারধর করতে থাকে। পরে তারেকের ডাক-চিৎকারে শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সুকুর আলম। তাকেও তারা মারধর করে এবং কাছে থাকা গাছের গুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সুকুর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করা হয়। বর্তমানে তার শারিরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। অপর আহত তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে সুকুর আলমের শারিরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে এবং স্থানীয়দের উত্তেজিত হওয়ার খবর পেয়ে হামলাকারী ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যরা এলাকা থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি তাদের ফেসবুক গ্রুপটিও ইনএ্যাকটিভ (বন্ধ/বাতিল) করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। যার ফলে তাদের কাউকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কামাল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ইমন, ফারুক হোসেন’সহ স্থানীয় ও এলাকাবাসী জানান, সৈয়দপুর ও ভাটরা গ্রামের বেশ কিছু কিশোর ও তরুণ ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপে সদস্য। তারা মাদক সেবন ও চুরির সাথে জড়িত। দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তারা মানুষের উপর হামলা করে। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেন জানান, আমার সাথে সংঘটিত জামেলার সমাধান হয়েছে। এলাকার মানুষ তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, কিছুদিন পূর্বে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এবং তাদের অভিভাবকদের পরিষদে ডেকে এনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা সুকুর আলম নামের এক ছেলেকে মারধর করেছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। আমি সুকুর আলমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে ‘আরবিজি (রামপুর বাজার গ্যাং)’ নামক কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এরমধ্যে নতুন করে ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের নাম জানতে পেরেছি। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতায় কিশোরগ্যাং সদস্যদের প্রতিরোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভুঁইয়া জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স। তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

মতলব স্পোর্টিং ক্লাবের ৬৩ সদস্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি ফয়সাল খন্দকার, সম্পাদক সালাউদ্দিন

হাজীগঞ্জে কিশোর গ্যাং ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী

আপডেট : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

হাজীগঞ্জের কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের কিশোরগ্যাং ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের হামলায় মো. সুকুর আলম নামের (২৫) এক রাজমিস্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি অচেনত অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্য ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়াম’সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের হামলায় রাজমিস্ত্রী সুকুর আলম ও তারেক আহত হন।

গুরুতর আহত সুকুর আলম ওই ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে এবং অপর আহত তারেক (২০) একই বাড়ির বাসিন্দা। সম্প্রতি তাদের হামলায় ইউপি সদস্য ইসমাইল, জাহাবক্স প্রধানীয়া বাড়ির রায়হান, দাসের বাড়ির মিজান ও বড় বাড়ির সাব্বির আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ভাটরা মজুমদার বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি গায়ে হলুদে হঠাৎ করে উপস্থিত হন ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যরা। তারা নাচ-গান শুরু করে অশালীন আচরণ করতে থাকেন। এসময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে বাড়ির মুরুব্বীরা সাউন্ডবক্সের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ওই বাড়ির তারেককে সাউন্ড বক্সের সংযোগ দিতে বলে। সে না বলায় তাকে মারধর করতে থাকে। পরে তারেকের ডাক-চিৎকারে শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সুকুর আলম। তাকেও তারা মারধর করে এবং কাছে থাকা গাছের গুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে সুকুর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করা হয়। বর্তমানে তার শারিরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। অপর আহত তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে সুকুর আলমের শারিরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে এবং স্থানীয়দের উত্তেজিত হওয়ার খবর পেয়ে হামলাকারী ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যরা এলাকা থেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি তাদের ফেসবুক গ্রুপটিও ইনএ্যাকটিভ (বন্ধ/বাতিল) করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। যার ফলে তাদের কাউকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কামাল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন ইমন, ফারুক হোসেন’সহ স্থানীয় ও এলাকাবাসী জানান, সৈয়দপুর ও ভাটরা গ্রামের বেশ কিছু কিশোর ও তরুণ ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপে সদস্য। তারা মাদক সেবন ও চুরির সাথে জড়িত। দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তারা মানুষের উপর হামলা করে। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেন জানান, আমার সাথে সংঘটিত জামেলার সমাধান হয়েছে। এলাকার মানুষ তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, কিছুদিন পূর্বে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এবং তাদের অভিভাবকদের পরিষদে ডেকে এনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা সুকুর আলম নামের এক ছেলেকে মারধর করেছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। আমি সুকুর আলমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে ‘আরবিজি (রামপুর বাজার গ্যাং)’ নামক কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এরমধ্যে নতুন করে ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের নাম জানতে পেরেছি। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতায় কিশোরগ্যাং সদস্যদের প্রতিরোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভুঁইয়া জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, মাদক, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্স। তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান।