ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী এমপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

ছবি-ত্রিনদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

একাধিক নারী এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিপদ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।


“প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।” হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার


সেই মন্তব্যকে সমর্থন করে আরও চাঞ্চল্য বাড়িয়েছেন হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, ভারতে আরও বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রী শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে একাধিক নারীকে এমপি ও মন্ত্রী করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্বামীর এ বক্তব্য সামনে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার একই সুরে কথা বলেন।


মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।

এখানেই থেমে থাকেননি কিশওয়ার। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন। কীভাবে তিনি মন্ত্রী হলেন- তা নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও সেসব বিষয় জনসমক্ষে আসেনি।

কিশওয়ারের দাবি, ২০১৪ সালে বিদেশ সফরের সময়ও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কিত কথা শুনেছেন।

জানা যায়, মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ মন্তব্যগুলি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সরকার বা শাসকদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিরোধী শিবিরের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমগ্র ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। যদিও প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কচুয়ায় নাউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত 

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী এমপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

Update Time : ০৯:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

একাধিক নারী এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিপদ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।


“প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।” হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার


সেই মন্তব্যকে সমর্থন করে আরও চাঞ্চল্য বাড়িয়েছেন হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিক বিতর্কিত ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, ভারতে আরও বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রী শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে একাধিক নারীকে এমপি ও মন্ত্রী করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্বামীর এ বক্তব্য সামনে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার একই সুরে কথা বলেন।


মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো কোনো এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন- সেই নামগুলি হিন্দুত্ববাদী মহলের অনেকেরই জানা। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাদের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবার’ কথা শোনা গিয়েছিল।

এখানেই থেমে থাকেননি কিশওয়ার। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন। কীভাবে তিনি মন্ত্রী হলেন- তা নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও সেসব বিষয় জনসমক্ষে আসেনি।

কিশওয়ারের দাবি, ২০১৪ সালে বিদেশ সফরের সময়ও তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কিত কথা শুনেছেন।

জানা যায়, মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বিবেচিত হতেন। এমনকি তিনি মোদিকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। ফলে তার এ হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এতো গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি কিশওয়ার বা স্বামী— এই বিষয়টিও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ মন্তব্যগুলি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সরকার বা শাসকদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিরোধী শিবিরের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সমগ্র ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। যদিও প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।