ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ মাস বন্ধ থাকার পর

আজ মধ্যরাত থেকে মেঘনায় ইলিশ ধরতে নামছে জেলেরা

ছবি-ত্রিনদী

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ সহ সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার শেষে এখন মেঘনা পাড়ের জেলেরা ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টার পর থেকে জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। যার ফলে জেলে পাড়াগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। মৎস্য বিভাগ বলছে এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরান বাজার রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা ঘাট এবং আনন্দ বাজার এলাকায় জেলে পাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়। জেলেরা কেউ কেউ জাল মেরামত, মিস্ত্রিরা নৌকা মেরামত এবং অনেক জেলে মিলে নৌকা নদীতে নামাতে ব্যস্ত দেখাগেছে।

আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে নামার জন্য।

বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম বলেন, নৌকা-জাল মেরামত করতে ছোট নৌকা হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋন নিতে হয়েছে। এখন যদি ইলিশ পাওয়া যায় ঋন দেয়া যাবে এবং সংসারও চলবে।

একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭জন কাজ করে। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছে এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা হয়েছে, তেমনি জাতীয়ভাবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক হবে।

তিনি আরো বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি বিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এবছরই প্রথম জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

২ মাস বন্ধ থাকার পর

আজ মধ্যরাত থেকে মেঘনায় ইলিশ ধরতে নামছে জেলেরা

Update Time : ০২:৫১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ সহ সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞার শেষে এখন মেঘনা পাড়ের জেলেরা ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৩০ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টার পর থেকে জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে মাছ ধরতে নদীতে নামবেন। যার ফলে জেলে পাড়াগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। মৎস্য বিভাগ বলছে এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরান বাজার রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা ঘাট এবং আনন্দ বাজার এলাকায় জেলে পাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়। জেলেরা কেউ কেউ জাল মেরামত, মিস্ত্রিরা নৌকা মেরামত এবং অনেক জেলে মিলে নৌকা নদীতে নামাতে ব্যস্ত দেখাগেছে।

আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে নামার জন্য।

বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম বলেন, নৌকা-জাল মেরামত করতে ছোট নৌকা হওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋন নিতে হয়েছে। এখন যদি ইলিশ পাওয়া যায় ঋন দেয়া যাবে এবং সংসারও চলবে।

একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭জন কাজ করে। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছে এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা হয়েছে, তেমনি জাতীয়ভাবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি সহায়ক হবে।

তিনি আরো বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ৪ মাস ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি বিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এবছরই প্রথম জাটকা প্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য