ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় সরকারি খাল ভূমি দস্যুদের দখলে, ২শত হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধান পানির নিচে ! বিপাকে হাজার হাজার কৃষক

কচুয়ায় প্রবহমান খাল দখল করায় ২শত হেক্টর জমির ইরিবোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের গুলবাহার, মহদ্দিরবাগ,দেবিপুর, কাপিলাবাড়ি, মনপুরা,কাদলাসহ অধিকাংশ গ্রামের একমাত্র দুইশত বছরের পুরানো খালটি এখন বিলুপ্তির পথে। এই গ্রামগুলোর ৫শত হেক্টরের জমির পানির চলাচলের একমাত্র খালটি। বর্তমানে এই খালটি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা ও এলাকাবাসী। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রামের প্রধান যাতায়াতের সড়কও। খালের অধিকাংশ জায়গায় গড়ে উঠেছে বাড়িঘর, কোথাও হয়েছে ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা। খালের অনেক জায়গায় কোন চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, খালের দুই পাশে দশটি গ্রামের একমাত্র বিলের পাঁচশত হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। খালটি ভরাট হওয়ার ফলে বিলের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিলের পানি বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকে। প্রতি বছর এলাকার কৃষকগন ৬০-৭০ হাজার মন ইরি বোরো ধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই ফসলি মাঠে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে হাঁটুর সমান পানিতে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের কষ্টের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা ভুগছেন আর কান্না করছেন।

স্থানীয় কৃষক মো.আলমাছ উদ্দিন বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি খালটির দুই পাশে ভরাট করে অবৈধ ভাবে বাড়িঘর ও খাল বন্ধ করে চলাচলের রাস্তা করেছেন। বর্তমানে বৃহৎ বড় বিলের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। বিলে জমে থাকা পানি বের হতে না পারায় প্রতি বছর বিপুল অংকের টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন আমাদের মতো কৃষকরা । এ বিষয়ে প্রাশসনের সহযোগিতায় খালটি খননসহ খালটি উন্মুক্ত করার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এলাকার কৃষক মিজান মোল্লা,ইউনুছ মোল্লা,মোস্তফা মোল্লাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই খালটি দখল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বাড়িঘরের পানি সড়কে উঠে আসে। ফলে চলাচলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২২ সালে কৃষি অফিস, ভূমি অফিস, নির্বাহী অফিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরাবর অভিযোগ দিয়ে কোন সমাধান পাইনি আমরা। বর্তমানে এই খালটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে । খালের অধিকাংশের জায়গায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখলে নিয়েছে। এই খালটি খনন বা উদ্ধার করার জন্য তখনকার কেউ কোন ভূমিকা নেননি বরং আমরা হয়রানি শিকার হয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করা হোক।

কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “কচুয়া কয়েকটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের জন্য এসিল্যান্ড অফিস থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খাল দখল হয়ে থাকলে—এলাকাবাসী আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মতলবে কোন মাদক ব্যবসায়িক চিহ্ন রাখবো না-ওসি হাফিজুর রহমান মনিক

কচুয়ায় সরকারি খাল ভূমি দস্যুদের দখলে, ২শত হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধান পানির নিচে ! বিপাকে হাজার হাজার কৃষক

Update Time : ০৮:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের গুলবাহার, মহদ্দিরবাগ,দেবিপুর, কাপিলাবাড়ি, মনপুরা,কাদলাসহ অধিকাংশ গ্রামের একমাত্র দুইশত বছরের পুরানো খালটি এখন বিলুপ্তির পথে। এই গ্রামগুলোর ৫শত হেক্টরের জমির পানির চলাচলের একমাত্র খালটি। বর্তমানে এই খালটি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা ও এলাকাবাসী। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রামের প্রধান যাতায়াতের সড়কও। খালের অধিকাংশ জায়গায় গড়ে উঠেছে বাড়িঘর, কোথাও হয়েছে ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা। খালের অনেক জায়গায় কোন চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, খালের দুই পাশে দশটি গ্রামের একমাত্র বিলের পাঁচশত হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। খালটি ভরাট হওয়ার ফলে বিলের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিলের পানি বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকে। প্রতি বছর এলাকার কৃষকগন ৬০-৭০ হাজার মন ইরি বোরো ধান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এই ফসলি মাঠে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের কারণে হাঁটুর সমান পানিতে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের কষ্টের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা ভুগছেন আর কান্না করছেন।

স্থানীয় কৃষক মো.আলমাছ উদ্দিন বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি খালটির দুই পাশে ভরাট করে অবৈধ ভাবে বাড়িঘর ও খাল বন্ধ করে চলাচলের রাস্তা করেছেন। বর্তমানে বৃহৎ বড় বিলের পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। বিলে জমে থাকা পানি বের হতে না পারায় প্রতি বছর বিপুল অংকের টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন আমাদের মতো কৃষকরা । এ বিষয়ে প্রাশসনের সহযোগিতায় খালটি খননসহ খালটি উন্মুক্ত করার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এলাকার কৃষক মিজান মোল্লা,ইউনুছ মোল্লা,মোস্তফা মোল্লাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই খালটি দখল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বাড়িঘরের পানি সড়কে উঠে আসে। ফলে চলাচলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২২ সালে কৃষি অফিস, ভূমি অফিস, নির্বাহী অফিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরাবর অভিযোগ দিয়ে কোন সমাধান পাইনি আমরা। বর্তমানে এই খালটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে । খালের অধিকাংশের জায়গায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখলে নিয়েছে। এই খালটি খনন বা উদ্ধার করার জন্য তখনকার কেউ কোন ভূমিকা নেননি বরং আমরা হয়রানি শিকার হয়েছি। বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ খালটি দখলমুক্ত করে পুনরায় খনন করা হোক।

কচুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “কচুয়া কয়েকটি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের জন্য এসিল্যান্ড অফিস থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খাল দখল হয়ে থাকলে—এলাকাবাসী আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।