ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খুন করে ভিডিও কলে মা-বাবকে লাশ দেখালো বড় ভাই

পরকীয়া, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইতালিতে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে বড় ভাই

ছবি-ত্রিনদী

ইউরোপের দেশ ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পরকীয়া, গোপন বিয়ে এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। নৃশংস এই ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

নিহত যুবকের নাম নয়ন ফকির। অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে ইতিমধ্যে ইতালির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফকির বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এক আত্মীয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়ে পরিবার মেনে না নেওয়ায় বাবা-মা ও ছোট ভাই নয়নের সঙ্গে হুমায়ুনের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ বাবা ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হুমায়ুনের ধারণা ছিল, এসবের পেছনে ছোট ভাই নয়নের প্ররোচনা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। নয়নকে ইতালি নিতে যে খরচ হয়েছিল, তার বিপরীতে নয়ন ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি পারিবারিক খরচের অজুহাতে হুমায়ুন আরও ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হলেও তার আগেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

ইতালির স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লেইজ শহরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্বজনরা জানান, নয়ন যখন বড় ভাইয়ের বাসার নিচে সাইকেল চার্জ দিতে যান, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পিঠ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবা-মাকে ভাইয়ের নিথর দেহ দেখিয়ে নৃশংস উল্লাস প্রকাশ করেন হুমায়ুন।

নিহত নয়নের বোন দিলারা আক্তার বলেন, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই খুনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিনও স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে অভিযুক্ত হুমায়ুন ইতালিয়ান পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও প্রবাস জীবনের মানসিক চাপ এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরকীয়া, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইতালিতে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে বড় ভাই

খুন করে ভিডিও কলে মা-বাবকে লাশ দেখালো বড় ভাই

পরকীয়া, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইতালিতে আপন ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে বড় ভাই

Update Time : ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ইউরোপের দেশ ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পরকীয়া, গোপন বিয়ে এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। নৃশংস এই ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

নিহত যুবকের নাম নয়ন ফকির। অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে ইতিমধ্যে ইতালির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন ফকির বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এক আত্মীয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়ে পরিবার মেনে না নেওয়ায় বাবা-মা ও ছোট ভাই নয়নের সঙ্গে হুমায়ুনের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ বাবা ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হুমায়ুনের ধারণা ছিল, এসবের পেছনে ছোট ভাই নয়নের প্ররোচনা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় অঙ্কের আর্থিক বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। নয়নকে ইতালি নিতে যে খরচ হয়েছিল, তার বিপরীতে নয়ন ইতিমধ্যে ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি পারিবারিক খরচের অজুহাতে হুমায়ুন আরও ৮ লাখ টাকা দাবি করেন। নয়ন সেই টাকা দিতে রাজি হলেও তার আগেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

ইতালির স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লেইজ শহরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্বজনরা জানান, নয়ন যখন বড় ভাইয়ের বাসার নিচে সাইকেল চার্জ দিতে যান, তখন ওত পেতে থাকা হুমায়ুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পিঠ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবা-মাকে ভাইয়ের নিথর দেহ দেখিয়ে নৃশংস উল্লাস প্রকাশ করেন হুমায়ুন।

নিহত নয়নের বোন দিলারা আক্তার বলেন, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই খুনের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিনও স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে অভিযুক্ত হুমায়ুন ইতালিয়ান পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও প্রবাস জীবনের মানসিক চাপ এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দারা।