ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কচুয়ার রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি

কচুয়ার রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি অবৈধভাবে দখল ও ময়লা আবর্জনা ফেলিয়ে বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহিমানাগর প্রবহমান খালটি । স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে খালটির দু-পাশ। বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালের পানি। এতে বাড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো খাল দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শত বছরের পুরানো এ খালটি রহিমানাগর বাণিজ্যিক বড় বাজার হওয়ায় খালের দুই পাশে কেউ নির্মাণ করেছেন টিনের ঘর, খালের উপর বহুতলা ভবন, কেউ আরসিসি পিলার ঢালাই করে পাকা দোকান। খালজুড়ে যেন চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। একের পর এক দখলে খালটি সংকুচিত হয়ে কোথাও সরু ড্রেনে, আবার কোথাও সেটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দীর্ঘদিন থেকে দখল হয়ে যাওয়ায় প্রবহমান ঐতিহাসিক খালটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। দখলের পাশাপাশি পচা-ময়লা আবর্জনায় সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে রহিমানাগর বাজারের মাংস বাজার, মুরগি বাজার, সবজি বাজার, পান সুপারি বাজারসহ ব্রিজ এলাকা। বাজারের পচা-ময়লা আবর্জনা খালে ফেলায় পানি পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। খালের দু-পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। বর্তমানে দখলে দূষণে ভরাট। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খালটি খনন করা খুবই জরুরি। আমরা খালটি খননের দ্রুত দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনও মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন,উপজেলা জুড়ে খাল খননের জন্য তালিকা করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পের আওতায় শীঘ্রই খালগুলো পুণঃ খনন করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

বাবুরহাট বাজার মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি’র সভাপতি আলাউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক মাসুম বকাউল

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কচুয়ার রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি

আপডেট : ০৮:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহিমানাগর প্রবহমান খালটি । স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে খালটির দু-পাশ। বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালের পানি। এতে বাড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো খাল দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শত বছরের পুরানো এ খালটি রহিমানাগর বাণিজ্যিক বড় বাজার হওয়ায় খালের দুই পাশে কেউ নির্মাণ করেছেন টিনের ঘর, খালের উপর বহুতলা ভবন, কেউ আরসিসি পিলার ঢালাই করে পাকা দোকান। খালজুড়ে যেন চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। একের পর এক দখলে খালটি সংকুচিত হয়ে কোথাও সরু ড্রেনে, আবার কোথাও সেটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দীর্ঘদিন থেকে দখল হয়ে যাওয়ায় প্রবহমান ঐতিহাসিক খালটি এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। দখলের পাশাপাশি পচা-ময়লা আবর্জনায় সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে রহিমানাগর বাজারের মাংস বাজার, মুরগি বাজার, সবজি বাজার, পান সুপারি বাজারসহ ব্রিজ এলাকা। বাজারের পচা-ময়লা আবর্জনা খালে ফেলায় পানি পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। খালের দু-পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। বর্তমানে দখলে দূষণে ভরাট। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খালটি খনন করা খুবই জরুরি। আমরা খালটি খননের দ্রুত দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনও মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন,উপজেলা জুড়ে খাল খননের জন্য তালিকা করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পের আওতায় শীঘ্রই খালগুলো পুণঃ খনন করা হবে।