ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

ছবি-ত্রিনদী

হাজীগঞ্জের সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আব্দুল মজিব নামের স্থানীয় একজন ব্যক্তি ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃত অভিভাবক সদস্য প্রার্থী কমিটি গঠন নিয়ে (অভিভাবক সদস্য) চাঁদা দাবি’সহ নানা অভিযোগ করেন।

বিষয়টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন, এডহক কমিটির সদস্য সচিব, অধ্যক্ষ মো. আবু বকর ও সদস্য মো. ফজলুল হক। বুধবার (৮ জুলাই) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিনাপ্রতিদ্ব›দ্ধীতায় নির্বাচিত ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃত অভিভাবক সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা সংবাদকর্মীদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মাদ্রাসা থেকে সংবাদকর্মীদের জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন প্রথম ধাপে আব্দুল কাইয়ুম, ইকবাল হোসেন ও গিয়াস উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আব্দুল মজিব, দিদার আলী ও হেলাল উদ্দিন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং মনোনয়ন ফি ফেরৎ নেন। এতে করে বাকি তিনজন আশেক উল্যাহ খাঁন মেম্বার, আহচান হাবিব মেম্বার ও মোহাম্মদ হাসান বিধি অনুযায়ী বিনাপ্রতিদ্ব›দ্ধীতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মজিব নামের একজন ব্যক্তি চাঁদা দাবির অভিযোগ’সহ অন্যান্য নানান অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পেইজে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা প্রচার করেন।

এ বিষয়ে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী আশেক উল্যাহ খাঁন মেম্বার, আহচান হাবিব মেম্বার ও মনোনয়নপত্র প্রত্যহারকৃত প্রার্থী দিদার আলী বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আব্দুল মজিবসহ তিনজন স্বেচ্ছায় তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে মনোনয়ন ফি ফেরৎ নেন। যেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তারা স্বাক্ষর করেছেন।

তারা বলেন, ওই সময়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক সদস্য প্রার্থী’সহ স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন মিজি, বাচ্চু মিজি, জসিম মিজি, হোসেন, আনাস বেপারী, ফারুক বেপারী’সহ এলাকার অন্তত ১০/১৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অথচ এর পরের দিন আব্দুল মজিব উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট ও অভিভাবক সদস্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে অপপ্রচার করেন। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু বকর বলেন, কারো কোন অভিযোগ থাকলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি কিংবা শিক্ষা অফিস বা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির এডহক কমিটির সদস্য ফজলুল হক বলেন, মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন এবং অভিভাবক সদস্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে আব্দুল মজিব মাদ্রাসা’সহ আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটায়। বিষয়টির জন্য আমরা মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে জানিয়ে রাখলাম এবং তাদের কাছে বিচার দিলাম।

তিনি বলেন, তাকে আমরা প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে করছি। যদি তার কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে সে যেনো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। অন্যথায় আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

হাজীগঞ্জে সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

আপডেট : ১১:১৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

হাজীগঞ্জের সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি আব্দুল মজিব নামের স্থানীয় একজন ব্যক্তি ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃত অভিভাবক সদস্য প্রার্থী কমিটি গঠন নিয়ে (অভিভাবক সদস্য) চাঁদা দাবি’সহ নানা অভিযোগ করেন।

বিষয়টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন, এডহক কমিটির সদস্য সচিব, অধ্যক্ষ মো. আবু বকর ও সদস্য মো. ফজলুল হক। বুধবার (৮ জুলাই) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিনাপ্রতিদ্ব›দ্ধীতায় নির্বাচিত ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃত অভিভাবক সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা সংবাদকর্মীদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মাদ্রাসা থেকে সংবাদকর্মীদের জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে ৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন প্রথম ধাপে আব্দুল কাইয়ুম, ইকবাল হোসেন ও গিয়াস উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আব্দুল মজিব, দিদার আলী ও হেলাল উদ্দিন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং মনোনয়ন ফি ফেরৎ নেন। এতে করে বাকি তিনজন আশেক উল্যাহ খাঁন মেম্বার, আহচান হাবিব মেম্বার ও মোহাম্মদ হাসান বিধি অনুযায়ী বিনাপ্রতিদ্ব›দ্ধীতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মজিব নামের একজন ব্যক্তি চাঁদা দাবির অভিযোগ’সহ অন্যান্য নানান অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পেইজে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা প্রচার করেন।

এ বিষয়ে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী আশেক উল্যাহ খাঁন মেম্বার, আহচান হাবিব মেম্বার ও মনোনয়নপত্র প্রত্যহারকৃত প্রার্থী দিদার আলী বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আব্দুল মজিবসহ তিনজন স্বেচ্ছায় তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে মনোনয়ন ফি ফেরৎ নেন। যেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তারা স্বাক্ষর করেছেন।

তারা বলেন, ওই সময়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক সদস্য প্রার্থী’সহ স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেন মিজি, বাচ্চু মিজি, জসিম মিজি, হোসেন, আনাস বেপারী, ফারুক বেপারী’সহ এলাকার অন্তত ১০/১৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অথচ এর পরের দিন আব্দুল মজিব উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট ও অভিভাবক সদস্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে অপপ্রচার করেন। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু বকর বলেন, কারো কোন অভিযোগ থাকলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি কিংবা শিক্ষা অফিস বা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির এডহক কমিটির সদস্য ফজলুল হক বলেন, মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন এবং অভিভাবক সদস্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে আব্দুল মজিব মাদ্রাসা’সহ আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটায়। বিষয়টির জন্য আমরা মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে জানিয়ে রাখলাম এবং তাদের কাছে বিচার দিলাম।

তিনি বলেন, তাকে আমরা প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে করছি। যদি তার কোন অভিযোগ থাকে, তাহলে সে যেনো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। অন্যথায় আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।