ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলির জায়গা হবে না-প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • 152

ছবি-ত্রিনদী

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

দক্ষিণ এশিয়ার এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সম্প্রতি দেশটির জোহর রাজ্যে গড়ে ওঠা একটি ডিজিটাল যাযাবর ও প্রযুক্তিভিত্তিক কমিউনিটিতে ইসরাইলিদের উপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমরা যদি কোনো ইসরাইলি নাগরিকের খোঁজ পাই, তবে তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করব। কারণ আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না।

তিনি জানান, জোহর রাজ্যের বহুল আলোচিত শত কোটি ডলারের আবাসন প্রকল্প ‘ফরেস্ট সিটি’-তে গড়ে ওঠা ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি কমিউনিটিতে ইসরাইলিরা যুক্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে যদি এই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েনবেসের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ও মার্কিন বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ মূলত ইন্টারনেটভিত্তিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে কিছু ইসরাইলি নাগরিক তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ব্যবহার করে অন্য দেশের পাসপোর্ট দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে এবং এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইসরাইলিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জোহর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওন হাফিজ গাজি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এই প্রকল্পের প্রতিটি কার্যকলাপ গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সেখানে অবস্থানরতদের পরিচয়, জাতীয়তা, ভ্রমণ নথিপত্র এবং দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোনো পক্ষকেই জোহরের মাটি ব্যবহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থবিরোধী আদর্শ প্রচার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে এখন পর্যন্ত অভিবাসন বিভাগ ফরেস্ট সিটির ওই প্রকল্পে থাকা ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে সবার বৈধতা পেয়েছে।

১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অন্যতম শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও বরাবরই সোচ্চার মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি নাগরিককে শনাক্ত করা গেছে কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খান

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলির জায়গা হবে না-প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

দক্ষিণ এশিয়ার এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সম্প্রতি দেশটির জোহর রাজ্যে গড়ে ওঠা একটি ডিজিটাল যাযাবর ও প্রযুক্তিভিত্তিক কমিউনিটিতে ইসরাইলিদের উপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমরা যদি কোনো ইসরাইলি নাগরিকের খোঁজ পাই, তবে তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করব। কারণ আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না।

তিনি জানান, জোহর রাজ্যের বহুল আলোচিত শত কোটি ডলারের আবাসন প্রকল্প ‘ফরেস্ট সিটি’-তে গড়ে ওঠা ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি কমিউনিটিতে ইসরাইলিরা যুক্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে যদি এই দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েনবেসের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ও মার্কিন বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ মূলত ইন্টারনেটভিত্তিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে কিছু ইসরাইলি নাগরিক তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ব্যবহার করে অন্য দেশের পাসপোর্ট দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে এবং এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইসরাইলিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জোহর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওন হাফিজ গাজি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এই প্রকল্পের প্রতিটি কার্যকলাপ গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সেখানে অবস্থানরতদের পরিচয়, জাতীয়তা, ভ্রমণ নথিপত্র এবং দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোনো পক্ষকেই জোহরের মাটি ব্যবহার করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থবিরোধী আদর্শ প্রচার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে এখন পর্যন্ত অভিবাসন বিভাগ ফরেস্ট সিটির ওই প্রকল্পে থাকা ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে সবার বৈধতা পেয়েছে।

১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মালয়েশিয়া ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অন্যতম শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও বরাবরই সোচ্চার মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি নাগরিককে শনাক্ত করা গেছে কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।