ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩০ বছর বয়সী মাকে আগলে রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • 165

ছবি-ত্রিনদী

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামে বসবাস করেন শতায়ু মা-মেয়ে ফাতেমা বেগম ও মানিকজান। বয়সের ভারে দুজনই ন্যুব্জ, তবু একে অপরের হাত ধরেই পার করছেন জীবনের শেষ অধ্যায়। দীর্ঘদিন একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানোর পর অবশেষে মানবিক উদ্যোগে তাদের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি নতুন নিরাপদ ঘর।

স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা বেগমের প্রকৃত বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছরের মধ্যে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বয়স কম উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ে মানিকজানের বয়সও প্রায় ১০০ বছর। স্বাধীনতার পরপরই স্বামীকে হারান ফাতেমা বেগম। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তার একমাত্র ছেলেও। এরপর থেকে মা-মেয়ে একে অপরের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন।

অভাব-অনটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের আশ্রয় ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ কুঁড়েঘর। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও নিরাপদ বাসস্থানের স্বপ্ন অধরাই ছিল।

তাদের দুর্দশার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন। প্রথমে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পর সংগঠনটির সদস্যরা তাদের বসতঘরের বেহাল অবস্থা দেখে একটি টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা-মেয়ে। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, শৈশব, সংসার আর হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের স্মৃতি বলতে বলতে তাদের চোখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। জীবনের শেষ বয়সে একটি নিরাপদ আশ্রয়ই যেন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে ফাতেমা বেগম ও মানিকজানের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনেও ফিরবে নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নতুন আশার আলো।

উল্লেখ্য, ফাতেমা বেগম ও মানিকজানের বয়স ১২৫-১৩০ বছর ও ১০০ বছর—এ তথ্য স্থানীয়দের দাবি। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বয়স ভিন্নভাবে উল্লেখ রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

এক্সপ্রেসওয়েতে স্লিপার বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

১৩০ বছর বয়সী মাকে আগলে রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে

আপডেট : ১১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামে বসবাস করেন শতায়ু মা-মেয়ে ফাতেমা বেগম ও মানিকজান। বয়সের ভারে দুজনই ন্যুব্জ, তবু একে অপরের হাত ধরেই পার করছেন জীবনের শেষ অধ্যায়। দীর্ঘদিন একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানোর পর অবশেষে মানবিক উদ্যোগে তাদের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি নতুন নিরাপদ ঘর।

স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা বেগমের প্রকৃত বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছরের মধ্যে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বয়স কম উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ে মানিকজানের বয়সও প্রায় ১০০ বছর। স্বাধীনতার পরপরই স্বামীকে হারান ফাতেমা বেগম। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তার একমাত্র ছেলেও। এরপর থেকে মা-মেয়ে একে অপরের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছেন।

অভাব-অনটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের আশ্রয় ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ কুঁড়েঘর। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও নিরাপদ বাসস্থানের স্বপ্ন অধরাই ছিল।

তাদের দুর্দশার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন। প্রথমে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পর সংগঠনটির সদস্যরা তাদের বসতঘরের বেহাল অবস্থা দেখে একটি টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

নতুন ঘরের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা-মেয়ে। জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, শৈশব, সংসার আর হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের স্মৃতি বলতে বলতে তাদের চোখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। জীবনের শেষ বয়সে একটি নিরাপদ আশ্রয়ই যেন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে ফাতেমা বেগম ও মানিকজানের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনেও ফিরবে নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নতুন আশার আলো।

উল্লেখ্য, ফাতেমা বেগম ও মানিকজানের বয়স ১২৫-১৩০ বছর ও ১০০ বছর—এ তথ্য স্থানীয়দের দাবি। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বয়স ভিন্নভাবে উল্লেখ রয়েছে।