ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ ঘণ্টা পর মেঘনা থেকে নিখোঁজ রবিনের মরদেহ উদ্ধার

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 5

রবিন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশে মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিনের মরদেহ দীর্ঘ প্রায় ২৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করে।

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামানোর সময় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী রবিন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চ থেকে নামার পর রবিনের মনে পড়ে, তাঁর ব্যাগটি লঞ্চে রয়ে গেছে। পরে তিনি আবার লঞ্চে ওঠেন। ব্যাগ নিয়ে ফের নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রবিন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌপুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মতলব উত্তরের তাতুয়া গ্রামের মনির হোসেন (৫০) এবং গ্রিজার দাউদকান্দির বালিয়াধন গ্রামের মো. সুমন (২৭)-কে আটক করা হয়।

রবিন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বেলতলী নৌপুলিশ, মোহনপুর নৌপুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

এদিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় রবিনের একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য একটি ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি নম্বরটি তাঁর স্বামীর বলে নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে রবিনের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

স্বামীর নিখোঁজের খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। একদিন ধরে স্বামীর সন্ধানে ঘাটে অপেক্ষা করেন তিনি। এ সময় আহাজারি করে তিনি বলেন, “আমার এহন কি অইবো, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবো? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না?”

রবিনের শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা করার জন্য এজাহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক পিপিএম।

ঘটনার খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর স্রোতের কারণে প্রয়োজনে ভাটির দিকেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে শিশুটিকে নির্জন বসত ঘরে নিয়ে যায় বৃদ্ধ মকবুল

২৬ ঘণ্টা পর মেঘনা থেকে নিখোঁজ রবিনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৮:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশে মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিনের মরদেহ দীর্ঘ প্রায় ২৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহটি উদ্ধার করে।

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামানোর সময় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী রবিন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চ থেকে নামার পর রবিনের মনে পড়ে, তাঁর ব্যাগটি লঞ্চে রয়ে গেছে। পরে তিনি আবার লঞ্চে ওঠেন। ব্যাগ নিয়ে ফের নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রবিন।

ঘটনার পর মুকবিল-২ দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌপুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মতলব উত্তরের তাতুয়া গ্রামের মনির হোসেন (৫০) এবং গ্রিজার দাউদকান্দির বালিয়াধন গ্রামের মো. সুমন (২৭)-কে আটক করা হয়।

রবিন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বেলতলী নৌপুলিশ, মোহনপুর নৌপুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

এদিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় রবিনের একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য একটি ফোনে দিয়ে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি থেকে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি নম্বরটি তাঁর স্বামীর বলে নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে রবিনের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

স্বামীর নিখোঁজের খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। একদিন ধরে স্বামীর সন্ধানে ঘাটে অপেক্ষা করেন তিনি। এ সময় আহাজারি করে তিনি বলেন, “আমার এহন কি অইবো, আমার মাইয়্যা আয়ান কে দেখবো? কেউ কি সাথে সাথে উঠাইতে পারলেন না?”

রবিনের শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে। রবিন ও নাসরিন দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এ ঘটনায় রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা করার জন্য এজাহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক পিপিএম।

ঘটনার খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ নেন।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর স্রোতের কারণে প্রয়োজনে ভাটির দিকেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।