ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হিড়িক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২৫ Time View

oppo_0

হাজীগঞ্জে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হিড়িক

সুজন দাস

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ায় শুরু হয়েছে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হাট। প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার দশমী দিন থেকে শুরু হয়ে আগামী কোজাগরী পূর্ণিমা পর্যন্ত এ হাট চলবে। সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিমা কিনতে হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রেতা ও পূজারীরা ভিড় করছেন।

আখড়া প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো রঙ-বেরঙের লক্ষ্মীর প্রতিমা। বড় ছোট মিলিয়ে বিভিন্ন আকারের প্রতিমা নিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পীরা। আকার অনুযায়ী প্রতিমার দাম রাখা হয়েছে আড়াইশো টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিমার মান, রঙের কাজ ও সাজসজ্জা অনুযায়ী ক্রেতাদের দরদামও চলছে।

হাজীগঞ্জের রাজারগাও থেকে আসা ক্রেতা গীতা রায় বলেন, “প্রতিবছর আমরা এখান থেকেই প্রতিমা কিনি। এখানে দাম তুলনামূলক কম এবং নানা ডিজাইন পাওয়া যায়। তবে এ বছর আগের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।”

প্রতিমা বিক্রেতা ও মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল জানান, “আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই সময়টার জন্য। প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে—রঙ, মাটি, বাঁশ ও শ্রমিক খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করি যেন ভক্তরা সাধ্যের মধ্যে প্রতিমা কিনতে পারেন।”

আখড়ায় কর্তব্যরত এক আয়োজক কমিটির সদস্য বলেন, “হাজীগঞ্জে শতবর্ষের ঐতিহ্য এ প্রতিমার হাট। ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা কিনতে পারেন সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিকে নজর রাখছি।”

পাশাপাশি কিছু প্রতিমার দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র ভক্তদের অসুবিধা হচ্ছে। তবে অন্যদিকে, এক স্থানে এত বিপুল প্রতিমা একসাথে পাওয়া এবং দরদাম করে কেনার সুযোগ থাকায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু দাস বলেন, “এ হাটকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। শুধু প্রতিমা কেনাবেচা নয়, এতে হাজীগঞ্জের ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে।”

সব মিলিয়ে, হাজীগঞ্জের লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ার এ প্রতিমার হাট এখন গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি পূজারীদের জন্য আনন্দের উৎসবও বটে। বাজারদরের তারতম্য থাকলেও ভক্তরা প্রিয় দেবীর প্রতিমা ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কচুয়ায় নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

হাজীগঞ্জে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হিড়িক

Update Time : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

হাজীগঞ্জে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হিড়িক

সুজন দাস

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ায় শুরু হয়েছে লক্ষ্মীর প্রতিমা বিক্রির হাট। প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার দশমী দিন থেকে শুরু হয়ে আগামী কোজাগরী পূর্ণিমা পর্যন্ত এ হাট চলবে। সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিমা কিনতে হাজীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ এবং কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রেতা ও পূজারীরা ভিড় করছেন।

আখড়া প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো রঙ-বেরঙের লক্ষ্মীর প্রতিমা। বড় ছোট মিলিয়ে বিভিন্ন আকারের প্রতিমা নিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পীরা। আকার অনুযায়ী প্রতিমার দাম রাখা হয়েছে আড়াইশো টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিমার মান, রঙের কাজ ও সাজসজ্জা অনুযায়ী ক্রেতাদের দরদামও চলছে।

হাজীগঞ্জের রাজারগাও থেকে আসা ক্রেতা গীতা রায় বলেন, “প্রতিবছর আমরা এখান থেকেই প্রতিমা কিনি। এখানে দাম তুলনামূলক কম এবং নানা ডিজাইন পাওয়া যায়। তবে এ বছর আগের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।”

প্রতিমা বিক্রেতা ও মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল জানান, “আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই সময়টার জন্য। প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে—রঙ, মাটি, বাঁশ ও শ্রমিক খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করি যেন ভক্তরা সাধ্যের মধ্যে প্রতিমা কিনতে পারেন।”

আখড়ায় কর্তব্যরত এক আয়োজক কমিটির সদস্য বলেন, “হাজীগঞ্জে শতবর্ষের ঐতিহ্য এ প্রতিমার হাট। ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা কিনতে পারেন সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিকে নজর রাখছি।”

পাশাপাশি কিছু প্রতিমার দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র ভক্তদের অসুবিধা হচ্ছে। তবে অন্যদিকে, এক স্থানে এত বিপুল প্রতিমা একসাথে পাওয়া এবং দরদাম করে কেনার সুযোগ থাকায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু দাস বলেন, “এ হাটকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। শুধু প্রতিমা কেনাবেচা নয়, এতে হাজীগঞ্জের ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে।”

সব মিলিয়ে, হাজীগঞ্জের লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ার এ প্রতিমার হাট এখন গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি পূজারীদের জন্য আনন্দের উৎসবও বটে। বাজারদরের তারতম্য থাকলেও ভক্তরা প্রিয় দেবীর প্রতিমা ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।