পৈত্রিক সম্পত্তি দাবী করে দীর্ঘ ৬০ বছরের দখলীয় ভূমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ জেঠাতো ভাইয়েরা। হুমকী ধুমকীর কারণে প্রাণের ভয়ে দিনাতিপাত করছে চাচাত ভাইয়ের পরিবার। শৌচাগার বন্ধ। বাচ্চারা স্কুল যেতে পারছেনা। পুকুরে যেতে পারছে না। ৩/৪ দিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন মো. আইউব গংদের পরিবার। অবরুদ্ধ পরিবারটি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানোর কারণে সাখায়াতকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারতে ছুটে যায় প্রতিপক্ষ আবদুল মান্নান। জীবনের নিরপত্তা চেয়ে বাধ্য হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় জিডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মো. সাখাওয়াত হোছাইন।
ঘটনাটি উপজেলার ৪নং সুবিধপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড়গাঁও গ্রামের দৌলারবাড়ীতে। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং ও আব্দুল মান্নান গং চাচাতো জেঠাতো ভাই। মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভোগ দখলে আছে। হঠাৎ করে আব্দুল মান্নান গং দাবী করে ঐ সম্পত্তিতে তাদেরও অংশ আছে। এ নিয়ে শালিস হয় এবং সার্ভে হয়। মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং সার্ভে আপত্তি করলে আব্দুল মান্নান গং জোর করে সে সম্পত্তিতে বাঁশের শক্ত বেড়া দেয়। এতে করে ৩/৪ দিন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন গং এর পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। উক্ত সম্পত্তির উপর তাদের শৌচাগার, গোসল খানা এবং যাতায়াতের রাস্তা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পরিবারটি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা পৈত্রিকসূত্রে দীর্ঘ ৮০/৯০ বছর উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখলে আছি। হঠাৎ করে উনারা এসে বলে এ সম্পত্তিতে উনাদের ভাগ আছে। ১১ জানুয়ারি উনারা জোর করে আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। কিছু বললে উনারা মেরে ফেলার হুমকী দেয়। টাকা এবং পেশী শক্তির কারণে এলাকার কেউ উনাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেনা।
মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোছাইন এর বড় ভাই মো. আইউব বলেন, উনাদের দাবী উনারা আমাদের কাছ থেকে জমি পাবেন কিন্তু চূড়ান্ত জরিফ ছাড়া উনারা আমাদের দীর্ঘ বছরের যাতায়াতের রাস্তাটিও বন্ধ করে দিয়েছে। ওদের শক্তি বেশী তাই আমরা নিরুপায়। আমরা প্রশাসনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
গৃহবধূ হাছিনা বেগম বলেন, ওরা জোর করে আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছি। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমরা প্রশাসনের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।
২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আ. রহমান (৭) বলে, বেড়া দেওয়ার কারণে আমরা স্কুলে যেতে পারছিনা। আমাদের অনেক সমস্যা হয়।
অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা পৈত্রিক এবং ক্রয় সূত্রে ঐ সম্পত্তির মালিক। সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সমাধান করে আমরা বেড়া দিয়েছি।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (৩নং ওয়ার্ড) ওবায়েদ বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিলো। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর উক্ত সম্পত্তি সাখাওয়াত গংদের দখলে ছিলো। প্রায় তিন মাস আগে মাপজরিপ হয়। কয়েকদিন আগে সেখানে বেড়া দেওয়ার পর এখন তারা (সাখাওয়াত) মাপ নিয়ে আপত্তি তোলে।
Reporter Name 























