ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিজড়া পরিচয়ে বসবাস, দুই সন্তান নিয়ে হাজির স্ত্রী; পালাল দেলোয়ার

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে হিজড়া সেজে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আসছেন তিন সন্তানের জনক দেলোয়ার হোসেন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

জানা যায়, দেলোয়ারের বাচনভঙ্গি হিজড়াদের সঙ্গে মিল থাকায় তিনি সুকৌশলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যান। শুরুর দিকে তিনি কুমিল্লা, লাকসাম ও নাথেরপেটুয়া এলাকায় হিজড়া সেজে অর্থ উপার্জন করতেন।

পরবর্তীতে তার পরিচয় হয় চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়নার সঙ্গে। দেলোয়ার হোসেন ‘সুমি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে রানী ময়নার সঙ্গে শাহরাস্তিতে চলে আসেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

গত বুধবার দুপুরে দেলোয়ারের খোঁজে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শাহরাস্তিতে হাজির হন তার স্ত্রী নাছিমা বেগম।

তিনি দাবি করেন, আপনারা যাকে সুমি হিজড়া হিসেবে চেনেন, তিনি আমার স্বামী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে আমাদের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। তিন সন্তান নিয়ে আমি খুব বিপদে আছি। তাই তার সন্ধান পেয়ে এখানে এসেছি।

শাহরাস্তি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় কয়েকজন হিজড়া বসবাস করে আসছেন। স্ত্রী নাছিমা বেগমের উপস্থিতি টের পেয়ে দেলোয়ার হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়না বলেন, তিনি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে হিজড়া সেজে অর্থ উপার্জন করতেন। সাত বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি তাকে শাহরাস্তিতে নিয়ে আসেন। তিনি তাকে ‘সুমি’ হিজড়া হিসেবেই চিনতেন।

এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতারক দেলোয়ারের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হিজড়া পরিচয়ে বসবাস, দুই সন্তান নিয়ে হাজির স্ত্রী; পালাল দেলোয়ার

হিজড়া পরিচয়ে বসবাস, দুই সন্তান নিয়ে হাজির স্ত্রী; পালাল দেলোয়ার

Update Time : ০৮:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে হিজড়া সেজে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে আসছেন তিন সন্তানের জনক দেলোয়ার হোসেন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

জানা যায়, দেলোয়ারের বাচনভঙ্গি হিজড়াদের সঙ্গে মিল থাকায় তিনি সুকৌশলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যান। শুরুর দিকে তিনি কুমিল্লা, লাকসাম ও নাথেরপেটুয়া এলাকায় হিজড়া সেজে অর্থ উপার্জন করতেন।

পরবর্তীতে তার পরিচয় হয় চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়নার সঙ্গে। দেলোয়ার হোসেন ‘সুমি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে রানী ময়নার সঙ্গে শাহরাস্তিতে চলে আসেন। এভাবে তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

গত বুধবার দুপুরে দেলোয়ারের খোঁজে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে শাহরাস্তিতে হাজির হন তার স্ত্রী নাছিমা বেগম।

তিনি দাবি করেন, আপনারা যাকে সুমি হিজড়া হিসেবে চেনেন, তিনি আমার স্বামী দেলোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমানে আমাদের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। তিন সন্তান নিয়ে আমি খুব বিপদে আছি। তাই তার সন্ধান পেয়ে এখানে এসেছি।

শাহরাস্তি উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় কয়েকজন হিজড়া বসবাস করে আসছেন। স্ত্রী নাছিমা বেগমের উপস্থিতি টের পেয়ে দেলোয়ার হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার রানী ময়না বলেন, তিনি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে হিজড়া সেজে অর্থ উপার্জন করতেন। সাত বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি তাকে শাহরাস্তিতে নিয়ে আসেন। তিনি তাকে ‘সুমি’ হিজড়া হিসেবেই চিনতেন।

এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতারক দেলোয়ারের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।