ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়েছে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা

ছবি-ত্রিনদী

সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় আদর্শ সমাজ (পঞ্চায়েত) ব্যবস্থা অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদ-উল আযহার দিনে সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জনপ্রতি প্রায় ২ কেজি করে মাংস প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, শত বছর পূর্বে টোরাগড় গ্রামে দুটি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে গ্রামের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে চারটি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা।

১৯৪১ সাল থেকে এই সমাজ ব্যবস্থা শুরু হয়। এর ধারবাহিকতায় ২০২৬ সালেও এ সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও সমাজ ব্যবস্থার বাহিরে এবং যারা সমাজ ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়, তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নিজ নিজ উদ্যোগে কোরবানির মাংস মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে লোপ্তে আলী মিজির নেতৃত্ব আব্দুল হক মৃধা, আলী উল্যাহ মৃধা, সুলতান সর্দার, নূর খাঁ ও ইদ্রিস মজুমদারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই সমাজ ব্যবস্থা চালু করেন। যা কোনো ধরনের সমালোচনা ছাড়া এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শতবর্ষ পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম সদস্য ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম খাঁন জানান, তিনি আশির দশক থেকে এ সমাজ ব্যবস্থার সাথে জড়িত। তখনকার সময় ১২টি গরু দিয়ে শুরু। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন এই সমাজ ব্যবস্থা তিন/চার ভাগ হয়েছে এবং প্রতিটি সমাজেই সমবণ্টনের মাধ্যামে মাংস বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থায় ৬০ থেকে ৭০টি পশু কোরবানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক একটি পশুর তিন ভাগের এক ভাগ সমাজে প্রদান করা হয়। এই সমাজে অধিভূক্ত যারা কোরবানি দিচ্ছেন না, সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমবণ্টন করে তাদের মাঝে মাংস দেয়া হয়ে থাকে।

বর্তমানে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার সাথে যারা সম্পৃক্ত থেকে সমাজ পরিচালনা করে আসছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, আনোয়ার হোসেন বতু, শাহজাহান তালুকদার, আবুল হাসেম ভুইয়া, জামাল মিজি, আনু মিজি, কবির মজুমদার, শহিদ মৃধা, শহীদুল ইসলাম, সেলিম খাঁন, সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, আব্বাস গাজী, মনির খন্দকার, কাউছার মৃধাসহ আরো অনেকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়াই আমার লক্ষ্য-পৌর মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী

সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়েছে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা

Update Time : ১১:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় আদর্শ সমাজ (পঞ্চায়েত) ব্যবস্থা অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদ-উল আযহার দিনে সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জনপ্রতি প্রায় ২ কেজি করে মাংস প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, শত বছর পূর্বে টোরাগড় গ্রামে দুটি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে গ্রামের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে চারটি সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা।

১৯৪১ সাল থেকে এই সমাজ ব্যবস্থা শুরু হয়। এর ধারবাহিকতায় ২০২৬ সালেও এ সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোরবানির মাংস প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও সমাজ ব্যবস্থার বাহিরে এবং যারা সমাজ ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত নয়, তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নিজ নিজ উদ্যোগে কোরবানির মাংস মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে লোপ্তে আলী মিজির নেতৃত্ব আব্দুল হক মৃধা, আলী উল্যাহ মৃধা, সুলতান সর্দার, নূর খাঁ ও ইদ্রিস মজুমদারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই সমাজ ব্যবস্থা চালু করেন। যা কোনো ধরনের সমালোচনা ছাড়া এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শতবর্ষ পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম সদস্য ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম খাঁন জানান, তিনি আশির দশক থেকে এ সমাজ ব্যবস্থার সাথে জড়িত। তখনকার সময় ১২টি গরু দিয়ে শুরু। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এখন এই সমাজ ব্যবস্থা তিন/চার ভাগ হয়েছে এবং প্রতিটি সমাজেই সমবণ্টনের মাধ্যামে মাংস বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থায় ৬০ থেকে ৭০টি পশু কোরবানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক একটি পশুর তিন ভাগের এক ভাগ সমাজে প্রদান করা হয়। এই সমাজে অধিভূক্ত যারা কোরবানি দিচ্ছেন না, সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমবণ্টন করে তাদের মাঝে মাংস দেয়া হয়ে থাকে।

বর্তমানে টোরাগড় আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার সাথে যারা সম্পৃক্ত থেকে সমাজ পরিচালনা করে আসছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, আনোয়ার হোসেন বতু, শাহজাহান তালুকদার, আবুল হাসেম ভুইয়া, জামাল মিজি, আনু মিজি, কবির মজুমদার, শহিদ মৃধা, শহীদুল ইসলাম, সেলিম খাঁন, সাংবাদিক মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, আব্বাস গাজী, মনির খন্দকার, কাউছার মৃধাসহ আরো অনেকে।