অবৈধ দখল, বর্জ্য, বালুব্যবসা ও বর্ষার পানিতে পলি মিশে ছোট ছোট চর জেগে ওঠায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মেঘনার শাখা নদী ডাকাতিয়া। এ নদী ভারতের ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে মিশেছে। প্রায় ২শত ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নদীতে এক সময় পাল তোলা নৌকা দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হতো। গত দুই দশক আগেও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ততটা উন্নত না হওয়ায় নৌযানের মাধ্যমেই বিভিন্ন হাটবাজারে মালামাল পরিবহনে ডাকাতিয়া নদীর ব্যাপক ভূমিকা ছিল। কিন্তু এখন ডুবোচর জেগে ওঠায় ইঞ্জিনচালিত নৌযানে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
শুকনো মৌসুমে নদীতে বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। নাদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ইরি-বোরো মৌসুমে পানি সেচের সমস্যায় পড়তে হয় লাখ লাখ কৃষকের। ফলে নদীতে দ্রুত খনন করা প্রায়োজন।
সরেজমিন দেখা গেছে, চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা থেকে শুরু করে সদর উপজেলার ইচলী, বাগাদী, মৈশাদী, শাহ মাহমুদপুর, রামপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা, সুবিদপুর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার বাজারকেন্দ্রিক ডাকাতিয়া নদী অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। বিশেষত বালু ব্যবসায়ীরা নদীর পাড় দখল করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চাঁদপুর শহরের ঢালীঘাট এলাকায় নদী দখল করে জাহাজ মেরামতের ডকইয়ার্ড এবং কয়েকটি বালুমহাল করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদরের গাছতলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, রামপুরে ছোটসুন্দর বাজার এলাকা, হাজীগঞ্জের বিলওয়াই, ডাকাতিয়ার রামগঞ্জ ব্রিজ, আলীগঞ্জ, শাহরাস্তি, সংলগ্ন এলাকায় বালু মহাল করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী নদী দখল করে চলেছে। ফলে নদীর বিভিন্ন স্থান সরু হয়ে গেছে এবং এতে করে নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
চৌধুরীঘাট এলাকার বাসিন্দা উৎপল সেন জানান, ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো ডাকাতিয়া নদী হয়ে ইচলীঘাট পর্যন্ত চলাচল করত। বর্তমানে নদীর দুই পাশ দখল হওয়ায় লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না।
সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক বেপারী জানান, এক সময় চাঁদপুর থেকে আমাদের পণ্য শাহাতলী বাজার, ছোট সুন্দর বাজার, কামরাঙ্গা বাজারে নৌকায় পরিবহন করা হতো। তখন পরিবহন খরচ অনেক কম ছিল। বর্তমানে সড়কপথে পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ছে।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হাজীগঞ্জের কয়েকজন বড় বড় ব্যবসায়ী জানান, এক সময় ব্যবসা বাণিজ্যের পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ডাকাতিয়া নদীই ছিলো প্রধান ভরসা। কালের বিবর্তনে সেই নদী আজ বিলুপ্ত। দখলে আর দূষণের কারণে আগের মতো আর মাছও পাওয়া যাচ্ছেনা।
জেলে সমিরন দাস বলেন, ডাকাতিয়া নদীকে ঘিরেই এর আশে পাশে হাজার হাজার জেলের বস-বাস। তবে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। তাই জেলেরা তাদের পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছে।
চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. সবুর খান জানান, ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় তিন নদীর মোহনা থেকে শুরু করে শাহরাস্তির সীমানা পর্যন্ত দুই পাড়ে যৌথ জরিপ কাজের মধ্যে এখন শাহরাস্তি অংশ বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, যৌথ জরিপ কাজ শেষ হলে আমরা দুই পাড়ে সীমানা পিলার দেব। তখন অবৈধ দখলদারদের নামের তালিকা করে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হবে। পরে উভয় দফতরের সমন্বয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মূলত নদীতে কোনো প্রকার দূষণ হলে, সে বিষয়ে কাজ করে থাকি। দূষণের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মহিউদ্দিন আল আজাদ: 



















