ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বরখাস্ত

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 64

ছবি-ত্রিনদী

ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) চিঠি দিয়ে তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কবির আহমেদ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ফলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামও বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশে অনিয়ম করে আসছিলেন।

বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারীর সন্দেহ হলে তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৫ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করেন। কমিটি ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্যাশ বই ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকার অনিয়ম ও গরমিলের প্রমাণ পায়।

বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী বিধিমালা ৪.১৭ বিধি অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গত ১৮ অক্টোবর তাদের চিঠি দিয়ে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সমুদয় টাকা পরিশোধের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা চিঠি গ্রহণ করতে ও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা ডেকে সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই সভায় কমিটির একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারী বলেন, “আমরা আপাতত বড় অংকের টাকার হিসাবগুলো ধরেছি। যাতায়াতের ভুয়া বিলের মতো অনেক ছোটখাটো হিসাব আমরা ধরিইনি। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে অফিস সহকারী প্রায় ৯ মাস প্রবাসে কাটিয়েছেন, যা পরে অবৈধভাবে বৈধ করা হয়। বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান ও জাহিদসহ বেশ ক’জন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশে গরমিল রয়েছে তা সত্য এবং এতোদিন নামমাত্র অর্থ কমিটি ছিলো।

এদিকে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নিম্ন গ্রেডের কেউ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে না। তাই আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি এবং এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি।”

অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি এবং বিদ্যালয়ের একটি টাকাও আত্মসাৎ করিনি। বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটিই সকল হিসাব-নিকাশ দেখভাল করেছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একটি চিঠি দিয়ে গেছেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

শাহরাস্তিতে সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে ১ লাখ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ

৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বরখাস্ত

আপডেট : ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) চিঠি দিয়ে তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কবির আহমেদ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ফলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামও বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশে অনিয়ম করে আসছিলেন।

বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারীর সন্দেহ হলে তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৫ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করেন। কমিটি ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্যাশ বই ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকার অনিয়ম ও গরমিলের প্রমাণ পায়।

বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী বিধিমালা ৪.১৭ বিধি অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গত ১৮ অক্টোবর তাদের চিঠি দিয়ে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সমুদয় টাকা পরিশোধের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা চিঠি গ্রহণ করতে ও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা ডেকে সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই সভায় কমিটির একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারী বলেন, “আমরা আপাতত বড় অংকের টাকার হিসাবগুলো ধরেছি। যাতায়াতের ভুয়া বিলের মতো অনেক ছোটখাটো হিসাব আমরা ধরিইনি। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে অফিস সহকারী প্রায় ৯ মাস প্রবাসে কাটিয়েছেন, যা পরে অবৈধভাবে বৈধ করা হয়। বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান ও জাহিদসহ বেশ ক’জন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশে গরমিল রয়েছে তা সত্য এবং এতোদিন নামমাত্র অর্থ কমিটি ছিলো।

এদিকে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নিম্ন গ্রেডের কেউ আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে না। তাই আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি এবং এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি।”

অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি এবং বিদ্যালয়ের একটি টাকাও আত্মসাৎ করিনি। বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটিই সকল হিসাব-নিকাশ দেখভাল করেছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একটি চিঠি দিয়ে গেছেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”