ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সৌদি রক্ষায়

ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মক্কা চুক্তির তিন দেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৪:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 39

ইরানের সঙ্গে বৈঠক করতে সোমবার তেহরানে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার পর তিন দেশের জোটের সঙ্গে ইরানের এটিই হবে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সৌদি ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংবাদ প্রতিবেদন

ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের হামলা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে। দুই পক্ষই বৃহত্তর যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাভুক্ত তিন দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের এ বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কয়েক মাস ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কাতার। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উদ্যোগেই সোমবারের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলি বাঘেরি-কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

শাহরাস্তিতে সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে ১ লাখ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ

সৌদি রক্ষায়

ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মক্কা চুক্তির তিন দেশ

আপডেট : ০৪:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে বৈঠক করতে সোমবার তেহরানে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার পর তিন দেশের জোটের সঙ্গে ইরানের এটিই হবে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সৌদি ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সংবাদ প্রতিবেদন

ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিদের হামলা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে। দুই পক্ষই বৃহত্তর যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতাভুক্ত তিন দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের এ বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কয়েক মাস ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কাতার। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উদ্যোগেই সোমবারের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সফরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলি বাঘেরি-কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করবেন।