ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের, আবেগাপ্লুত সভাপতি ফরহাদ পাটওয়ারী

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • 26

অশ্রু দিয়ে লেখা এ নাম, যেন ভুলে যেও না, হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে রাখতে হয় সেই নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের সেরা সময়, স্মৃতি আর ভালোবাসা। একজন শিক্ষকের কাছে তাঁর কর্মস্থল কেবল একটি বিদ্যালয় নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরজনিত কারণে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হলো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাইকপাড়া জুনিয়র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমকে। যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো কাটিয়েছেন, সেই চেনা আঙিনা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের সম্মানে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। তিনি ফরিদগঞ্জের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের আবু পাটওয়ারীর সুযোগ্য পুত্র।
এসময় প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত ফরহাদ পাটওয়ারী। প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের বিদায় উপলক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান অতিথি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত ভালো মানুষ। এমন মানুষদের বিদায় হয় না; তাঁদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পৃথিবী গড়তে জানতে হয়।”
এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিদ্যালয়ের মাঠ সম্প্রসারণ ও পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সামনের পুকুর ভরাট করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগ ও আশ্বাস উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে।
এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।
বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম। প্রায় ১২ বছর আগে শূন্য হাতে বিদ্যালয়ে যোগদানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতাকে নিজের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারীর অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। ফিরোজ আলম বলেন, “আমি বিদ্যালয়ে যতজন সভাপতি পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করেননি। ভবিষ্যতেও তিনি বিদ্যালয়ের পাশে থাকবেন বলে আশা করি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও তাঁকে শুভেচ্ছা স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হৃদয়ে স্মৃতি ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে থাকবেন প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম। তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও অবদান বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে শ্রদ্ধার সঙ্গে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

কাবাঘরে গিয়ে বিচার দেব :স্ত্রী চলে গেছে অন্য যুবকের সঙ্গে, দুধ দিয়ে গোসল করলেন প্রবাসী স্বামী

ফরিদগঞ্জে অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের, আবেগাপ্লুত সভাপতি ফরহাদ পাটওয়ারী

আপডেট : ১১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অশ্রু দিয়ে লেখা এ নাম, যেন ভুলে যেও না, হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে রাখতে হয় সেই নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের সেরা সময়, স্মৃতি আর ভালোবাসা। একজন শিক্ষকের কাছে তাঁর কর্মস্থল কেবল একটি বিদ্যালয় নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরজনিত কারণে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হলো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাইকপাড়া জুনিয়র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমকে। যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো কাটিয়েছেন, সেই চেনা আঙিনা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের সম্মানে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। তিনি ফরিদগঞ্জের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের আবু পাটওয়ারীর সুযোগ্য পুত্র।
এসময় প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত ফরহাদ পাটওয়ারী। প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের বিদায় উপলক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান অতিথি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত ভালো মানুষ। এমন মানুষদের বিদায় হয় না; তাঁদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পৃথিবী গড়তে জানতে হয়।”
এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিদ্যালয়ের মাঠ সম্প্রসারণ ও পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের সামনের পুকুর ভরাট করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগ ও আশ্বাস উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে।
এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।
বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম। প্রায় ১২ বছর আগে শূন্য হাতে বিদ্যালয়ে যোগদানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতাকে নিজের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারীর অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। ফিরোজ আলম বলেন, “আমি বিদ্যালয়ে যতজন সভাপতি পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমিনুল ইসলাম ফরহাদ পাটওয়ারী। তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করেননি। ভবিষ্যতেও তিনি বিদ্যালয়ের পাশে থাকবেন বলে আশা করি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলমের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও তাঁকে শুভেচ্ছা স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হৃদয়ে স্মৃতি ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে থাকবেন প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম। তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও অবদান বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে শ্রদ্ধার সঙ্গে।