পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পরিবার সাথে আন্দের মধ্যে দিয়ে ঈদ করা কথা ছিলো শারমীনের,কিন্ত কফিনের লাশ হয়ে বাড়িতে পিরলো। মেয়ে বিশ^বিদ্যালয় পড়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে বা-মায়ের স্বপ্ন পূরন করার কথা ছিলো, সবকিছু সমাপ্ত হয়ে গেলে আজ। মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় বা-মায়ের কান্নায় দু’চোখে পানি সাগরের ঢেউএর মতো হয়ে উঠছে। বা-মায়ের আদরের মেয়ে শারমিনের শব্দটি আজ দুঃখের পরীনিতি হয়েছে।
নিহত, শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান (২২) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে। হত্যার ঘটনায় স্বামী ফাহিমকে আসামি করে শারমিনের চাচা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশের হেফাজতে থাকা ফাহিমকে রাতে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৬ মার্চ সোমবার সকালে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত শারমীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী। তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর শারমীন ও ফাহিম গত বছরের ২৪ জুন বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদির পর থেকে শারমীন ও ফাহিমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহের সৃষ্টি হয়। এবিষয়টি শারমীন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শিক্ষার্থী শারমীন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে দিবাগত রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার সকালে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ এজহারে বলা হয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীর সময় শারমীনের কপালের ডান পাশে, মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। শারমীনের স্বামী ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাতনামাদের সহায়তায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শারমীনেক ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পৃথকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত খাদিজার মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন,আমার মেয়ের জামাই সাইফ উদ্দিন ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ের বাসায় ডাকাতি হয়েছে শারমিনের ল্যাপটপ ও মোবাইল নিয়ে গেছে। তার মাথায় আঘাত করেছে। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর পর শুনি আমার মেয়ে আর নেই। আমার দুই মেয়ের মধ্যে শারমিন আদরের ছোট মেয়ে। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমার মেয়েকে নিষ্ঠুর ভাবে মেরেছে, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
Reporter Name 





















