ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় সড়ক মেরামতের ৫ দিনের মাথায় গর্তের সৃষ্টি চলাচলের অনুপযোগী

কচুয়ায় সড়কের মেরামতের ৩ দিনের মাথায় পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি,চলাচলের অনুপযোগী।

চাঁদপুরের কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘতম সড়কটি দীর্ঘদিনের দিনের ভোগান্তে অবসান ঘটাতে মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া স্থানীয় লোকজনের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি আসলেও বর্তমানে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটি। রাস্তাটির ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমান অনেক যায়গায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের রাস্তাটি নিম্নমানের পাথর,ইট, বিটুমিন কম দেওয়া এবং কার্পেটিংয়ে পুরুত্ব (থিকনেস) কম রেখে কাজ করছে ঠিকাদার। এতে অনেকটা কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সংস্কারে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় পূর্বের গর্তে ও মাটির উপর খালি পাথর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কাজের শুরুতে অনিয়ম করেছে ঠিকাদারী লোকজন। রাস্তার মেরামতের কাজে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপদের অফিসের কেউ তদারকি না থাকায় ঠিকাদার এই অনিয়ম গুলো করে গেছে। অনিমের বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার ঠিকাদার লোকজনকে বললেও তারা কোন আমলে নিচ্ছে না।

তারা আরো জানান, এ রাস্তাটির দীর্ঘদিন সংস্কার বা মেরামত না হওয়ায় চলাচলের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এ রাস্তা দিয়ে ছোট বড় সকল ধরনের মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হলে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাস্তাটি মেরামতের কাজের শুরুতে ঠিকাদার ব্যাপক হারে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বর্তমানে রাস্তাটি মেরামতের কার্পেটিং ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথরগুলো উঠে পূর্বের গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার কোন জায়গায় বিটুমিন, তৈল, ইটের খোয়া না দিয়ে খালি বড় পাথর দিয়ে গেছে। বড় বড় পাথরগুলোর কারণে বর্তমান রাস্তাটি মানুষের স্বস্তির চেয়ে দুর্ভোগের পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, “দায়সারাভাবে সড়কের কাজটি করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদের তেমন তদারকিও নেই। এ রাস্তা টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।
সিএনজি ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন বলেন, “কাজ শেষ না হতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার করা আর না করা একই হলো। ভেবেছিলাম এই কাজের ফলে ভোগান্তি কমবে, এখন দেখছি ভোগান্তি আরও বাড়বে।

রাস্তার সংশ্লিষ্ট তদারকি সড়ক ও জনপদের ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ বলেন, রিফারিং এর জন্য রাস্তাটি এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। মানুষের চলাচলের জন-দুর্ভোগ দেখে ঠিকাদার দিয়ে রাস্তাটি রেফারিং করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ হলে ওই ঠিকাদারকে কাজের পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। অনিমের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান এবং ফোন কেটে দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে ১৫জন কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য আটক করেছে পুলিশ

কচুয়ায় সড়ক মেরামতের ৫ দিনের মাথায় গর্তের সৃষ্টি চলাচলের অনুপযোগী

Update Time : ০৮:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘতম সড়কটি দীর্ঘদিনের দিনের ভোগান্তে অবসান ঘটাতে মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া স্থানীয় লোকজনের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি আসলেও বর্তমানে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটি। রাস্তাটির ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমান অনেক যায়গায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের রাস্তাটি নিম্নমানের পাথর,ইট, বিটুমিন কম দেওয়া এবং কার্পেটিংয়ে পুরুত্ব (থিকনেস) কম রেখে কাজ করছে ঠিকাদার। এতে অনেকটা কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সংস্কারে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় পূর্বের গর্তে ও মাটির উপর খালি পাথর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কাজের শুরুতে অনিয়ম করেছে ঠিকাদারী লোকজন। রাস্তার মেরামতের কাজে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপদের অফিসের কেউ তদারকি না থাকায় ঠিকাদার এই অনিয়ম গুলো করে গেছে। অনিমের বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার ঠিকাদার লোকজনকে বললেও তারা কোন আমলে নিচ্ছে না।

তারা আরো জানান, এ রাস্তাটির দীর্ঘদিন সংস্কার বা মেরামত না হওয়ায় চলাচলের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এ রাস্তা দিয়ে ছোট বড় সকল ধরনের মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু হলে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাস্তাটি মেরামতের কাজের শুরুতে ঠিকাদার ব্যাপক হারে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বর্তমানে রাস্তাটি মেরামতের কার্পেটিং ঢালাই এর ৫ দিনের মাথায় পাথরগুলো উঠে পূর্বের গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার কোন জায়গায় বিটুমিন, তৈল, ইটের খোয়া না দিয়ে খালি বড় পাথর দিয়ে গেছে। বড় বড় পাথরগুলোর কারণে বর্তমান রাস্তাটি মানুষের স্বস্তির চেয়ে দুর্ভোগের পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, “দায়সারাভাবে সড়কের কাজটি করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদের তেমন তদারকিও নেই। এ রাস্তা টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।
সিএনজি ড্রাইভার বিল্লাল হোসেন বলেন, “কাজ শেষ না হতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার করা আর না করা একই হলো। ভেবেছিলাম এই কাজের ফলে ভোগান্তি কমবে, এখন দেখছি ভোগান্তি আরও বাড়বে।

রাস্তার সংশ্লিষ্ট তদারকি সড়ক ও জনপদের ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ বলেন, রিফারিং এর জন্য রাস্তাটি এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। মানুষের চলাচলের জন-দুর্ভোগ দেখে ঠিকাদার দিয়ে রাস্তাটি রেফারিং করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ হলে ওই ঠিকাদারকে কাজের পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। অনিমের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান এবং ফোন কেটে দেন।